পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পর রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি ক্রীড়া ও বিনোদন জগত থেকেও আসছে শুভেচ্ছাবার্তা। সেই তালিকায় যোগ হল প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা লক্ষ্মীরতন শুক্লার নামও। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করলেন তিনি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
শপথের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লক্ষ্মীরতন লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় স্যর শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
কারণ, একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন লক্ষ্মীরতন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং হাওড়া উত্তর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন। সেই নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পান। পাশাপাশি হাওড়া সদরের তৃণমূল জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছিলেন।
তবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আচমকাই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান লক্ষ্মীরতন। মন্ত্রীত্ব এবং সাংগঠনিক— দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেন তিনি। সেই সময় তাঁর দাবি ছিল, ক্রিকেট এবং কোচিংয়েই বেশি সময় দিতে চান। এরপর তিনি বাংলার ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। সাম্প্রতিক রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর কোচিংয়েই বাংলা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরও শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও লক্ষ্মীরতনের তরফে এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়নি।
এ দিনের শপথ অনুষ্ঠানে আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারের সংবর্ধনা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রার সঙ্গী ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী মঞ্চে তাঁকে সংবর্ধনা জানান এবং তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন।



