বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে বাবুল সুপ্রিয়র নাম। তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশে জল্পনা চলছিল, তবে কি আবার বিজেপিতে ফিরতে পারেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? অবশেষে সেই জল্পনার জবাব দিলেন স্বয়ং বাবুল। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, বিজেপিতে ফেরার কোনও ইচ্ছেই তাঁর নেই।
শনিবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের দিনেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন গায়ক-রাজনীতিবিদ। যদিও সারাদিন তাঁর ফোন কার্যত বন্ধ ছিল, তবু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বার্তাতেই তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।


বাবুল লিখেছেন, “আমি হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলার লোক নই। তাই দল ছাড়ার সময় শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুখের উপরেই বলেছিলাম, বিনা দোষে আমাকে অপমান বা শাস্তি মেনে নেব না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিজেপির সঙ্গে পুরনো দূরত্ব এখনও কাটেনি।
২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বও সামলেছেন। কিন্তু ২০২১ সালে আচমকা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। সেই সময় তাঁর দলত্যাগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফের ‘ঘর ওয়াপসি’র জল্পনা শুরু হতেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বাবুল। তাঁর দাবি, গত কয়েক দিনে বহু মানুষ তাঁকে বিজেপিতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেই কারণেই প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।


বাবুল লেখেন, “দয়া করে ধরে নেবেন না যে তাঁরা আমায় ফিরিয়ে নেবেন। তাই এই ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধ করুন।”
তবে একই সঙ্গে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের প্রতিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। বাবুলের কথায়, বিজেপিতে না ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তাই তাঁকে অকারণে আক্রমণ বা হেনস্থা না করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত দলের জন্য আমি কী করেছি, সেটা মনে রাখবেন। রাজনীতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বেও জীবন আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবুলের এই বক্তব্য শুধু জল্পনা থামানোর চেষ্টা নয়, বরং বিজেপি ছাড়ার সময়কার অভিমান ও ক্ষোভেরও প্রকাশ। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও নিজের অবস্থান বদলানোর কোনও ইচ্ছে আপাতত তাঁর নেই।







