মহাকরণে ফের সচিবালয় সরানোর ঘোষণা আগেই হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতায় আপাতত নবান্ন থেকেই কাজ শুরু করছে নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শনিবার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়েছে, আগামী শুক্রবার নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সরাসরি প্রশাসনিক কাজে মন দেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বিধানসভা ভবনের একটি অংশ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর হিসেবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, সেখানে এ দিন যাননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, পূর্ত দপ্তরের একটি ভবনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি।


নতুন সরকার আগেই জানিয়েছিল, রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে ফের ঐতিহাসিক মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংকে ব্যবহার করা হবে। সেই কারণে সেখানে জোরকদমে সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। তবে পুরো পরিকাঠামো প্রস্তুত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
এই অন্তর্বর্তী সময়ে বিধানসভা ভবনের একটি অংশকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। গেরুয়া আলোকসজ্জা, নতুন র্যাম্প এবং মুখ্যমন্ত্রীর নামফলক— সব মিলিয়ে সেখানে নতুন প্রশাসনিক আবহ তৈরি করা হয়েছে। তবুও আপাতত নবান্নের কনফারেন্স রুমেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে বিধানসভায়। তার পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার বসবে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।


সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক কর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বর্তমানে চলতে থাকা সরকারি প্রকল্পগুলির কাজ যেন কোনওভাবেই থেমে না যায়। সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও আগামী সোমবার সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে নবান্নে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথের পরই দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করে নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে— রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক গতি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।







