জেমি ম্যাকলারেন গোল করেছিলেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও একসময় মোহনবাগানের হাতেই ছিল। তবু শেষরক্ষা হল না। গোয়ায় গিয়ে এগিয়ে থেকেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারল না সবুজ-মেরুন। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হল সের্জিও লোবেরার দলকে। ফলে টানা জয়ের ছন্দ ধরে রাখা গেল না মোহনবাগানের। পয়েন্ট টেবলেও ধাক্কা খেল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল বেশ সতর্ক। প্রথমার্ধে মূলত রক্ষণ সামলাতেই বেশি মন দেয় দুই শিবির। মোহনবাগানের আক্রমণে ছিলেন জেমি ম্যাকলারেন এবং রবসন, কিন্তু গোয়ার শক্তিশালী ডিফেন্সের সামনে খুব একটা ধারালো দেখায়নি সবুজ-মেরুন আক্রমণভাগকে।


প্রথম ৪৫ মিনিটে মোহনবাগানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে আপুইয়ার দূরপাল্লার শটে। এছাড়া অ্যালড্রেডের একটি হেডও কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিল। তবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি বাগান। অন্য দিকে প্রতি-আক্রমণের কৌশলেই এগোচ্ছিল এফসি গোয়া। উদান্ত সিং, নেমিল এবং সাংওয়ানদের গতিতে কয়েকবার চাপে পড়তে দেখা যায় মোহনবাগানের রক্ষণকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদল আনেন সের্জিও লোবেরা। রবসনের জায়গায় মাঠে নামানো হয় জেসন কামিন্সকে। সেই পরিবর্তনের পরই আক্রমণে গতি বাড়ে মোহনবাগানের। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অবশেষে গোলের মুখ খোলে বাগান।
এফসি গোয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানের ভুল থেকেই তৈরি হয় সুযোগ। বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তিনি, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনও ভুল করেননি জেমি ম্যাকলারেন। বক্সের ভিতর থেকে ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা। এগিয়ে যায় মোহনবাগান।


তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরায় এফসি গোয়া। ডানদিক থেকে রনি উইলসনের তোলা একটি ক্রস আচমকাই জালে জড়িয়ে যায়। গোলকিপারও বলের গতিপথ বুঝে উঠতে পারেননি। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় ম্যাচে ফিরে আসে গোয়া।
এরপর ম্যাচ জেতার সেরা সুযোগ পেয়েছিলেন জেসন কামিন্স। ৭২ মিনিটে আবদুল সামাদের বাড়ানো দুর্দান্ত বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। একেবারে খালি সুযোগ নষ্ট করায় হতাশ হতে হয় বাগান শিবিরকে।
শেষ পর্যন্ত আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। এই ড্রয়ের ফলে মোহনবাগানের পয়েন্ট দাঁড়াল ২১। সমান পয়েন্ট রয়েছে ইস্টবেঙ্গলেরও। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখল লাল-হলুদ ব্রিগেড।







