নজরবন্দি ব্যুরো: ছুটির দিনে ট্রেনিং, অন্যথায় হুমকি দিচ্ছে কমিশন! বেনজির অভিযোগ শিক্ষকদের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে ভোট কর্মীদের ট্রেনিং। কিন্তু ট্রেনিংয়ে উপিস্থিত না থাকতে পারলে মিলছে হুমকি, এমনই অভিযোগ তুললেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সদস্যারা।


এর আগেও ভোট কর্মীদের ট্রেনিংয়ের সময়ে টিফিনে কোথাও ডিম কলা আবার কোথাও শুধু চা বিস্কুট দেওয়ায় প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির অভিযোগ আনলেন তারা। প্রসঙ্গত, করোনা কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি। সম্প্রতি স্কুল খোলা হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠন-পাঠনও শুরু হয়েছে। ফলে রবিবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিনই পুরোপুরি সচল স্কুলগুলি। অর্থাৎ সপ্তাহে মাত্র একটি দিন ছুটি পান শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এছাড়াও, অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত ভোট কর্মীরাও সপ্তাহে ৬ দিন ডিউটি করার পর একদিন অর্থাৎ রবিবার ছুটি পান। বহুক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের তরফে বিভিন্ন জেলায় রবিবার ভোট কর্মীদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুটি ট্রেনিংয়ের প্রতিটি রবিবার পড়ায় কোন ছুটি পাচ্ছেনা ভোটকর্মীরা। কোন কারণে ট্রেনিংয়ের দিন উপস্থিত না হতে পারলে তাকে শোকজ করা হচ্ছে। ভোট কর্মীদের প্রতি কমিশনের এমন ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।
শিক্ষক সংগঠনের তরফে দাবি জানানো হয়েছে ছুটির দিনে ট্রেনিংয়ের দিন ধার্য করা বন্ধ করার। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বিশেষ অসুবিধা থাকার কারণে কোনো ভোট কর্মী যদি ট্রেনিং-এ উপস্থিত থাকতে না পারেন তার জন্য তাকে শোকজ করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে ‘Notice to show cause before suspension order’ এই ভাষায়।’ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারীর বলেন, বিগত দিনে শোকজের এমন ভাষা কোনদিনও দেখা যায়নি। প্রাথমিক কারণ দর্শানোর জন্য সাধারণভাবে শোকজ করার রীতি রয়েছে।


ছুটির দিনে ট্রেনিং, অন্যথায় হুমকি দিচ্ছে কমিশন! বেনজির অভিযোগ শিক্ষকদের। কিন্তু বাস্তবে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা আগে জানা দরকার। তা না করে এই হুমকি ভোট কর্মীদের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানার সমান। আমরা নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের হুমকি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।







