নিয়োগ দুর্নীতিতে বিভাসের নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থর যোগ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিভাসের মাথায় ছিল পার্থর হাত। সেকারণেই দুর্নীতিতে সহজে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র চাকরি বিক্রি নয়, আশ্রমের আড়ালে কুকীর্তি থেকে শুরু করে, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাসের বিরুদ্ধে।
নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত তাপস মণ্ডল এবং কুন্তল ঘোষদের ভূমিকা এখন ইডির আতস কাঁচের তলায়। দুই জন ছাড়াও আরও এক বিধায়কের যোগ খুঁজে পাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। কুন্তল ও তাপসদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এক বিধায়কের। সূত্রের খবর, বিধায়কের মারফত চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলত কুন্তল এবং তাপস। একইসঙ্গে ইডি সূত্রে খবর, প্রায় ৬৯ জন এজেন্টদের মাধ্যমে জেলাস্তরে টাকা তুলত তাপস ও কুন্তল। এর মধ্যে ২৩ জন গোপাল দলপতির সঙ্গে যোগ রেখেছিলেন।
২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের সমস্ত প্রার্থীকে ভুল প্রশ্নের জন্য ৬ নম্বর দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার এমনটাই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের নির্দেশ, ইতিমধ্যেই প্রশ্নভুলের কারণে অনেকেই চাকরি পেয়েছেন। এবার প্রত্যেককে ৬ নম্বর করে দিতে হবে। চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে মানিক ভট্টাচার্য ও কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এবার কুন্তল ও মানিকের যোগ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরল ইডি। সূত্রের খবর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিকের রাগ ভাঙাতেও টাকা পাঠিয়েছিল কুন্তল। সেই টাকা গিয়েছিল মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মারফত।
প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারের মাধ্যমে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা। এর ফলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। এমনটাই এদিন ইডির তরফে আদালতে জানানো হয়েছে। যা দেখে বিচারপতির বক্তব্য, এটা মারাত্মক প্রবণতা। তাঁর সংযোজন, তদন্তকারী আধিকারিকদের হুমকি দেওয়া এবং তদন্তের গতি স্তব্ধ করার জন্য এসব করা হচ্ছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ সব বন্ধ করতে হবে। এই অতিচালাকি বরদাস্ত করা যাবে না।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার অয়ন শীল সম্পর্কে বিরাট তথ্য হাতে পেতে মরিয়া এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির বিশেষ নজরে রয়েছে অয়ন শীলের স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বান্ধবী ইমন গঙ্গোপাধ্যায় এবং শ্বেতা চক্রবর্তী। আগামী সপ্তাহেই অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতাকে তলব করতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। একইসঙ্গে তলব করা হতে পারে অয়নের পরিবারের সদস্যদের।
২০২০ এবং ২০২২ সালে ডিএলএড প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হয়েছেন, তাঁরা চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিল। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হল।