রাজ্যে সরকার বদলের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। বিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা হবে। তবে এর মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে দুশ্চিন্তা— স্বাস্থ্যসাথী উঠে গেলে কি আগের মতোই চিকিৎসার সুবিধা মিলবে? সেই উদ্বেগ কমাতেই আশ্বাসের সুর গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় যে পরিষেবা মানুষ পেতেন, আয়ুষ্মান ভারত চালুর পরেও যাতে কেউ বঞ্চিত না হন, সে দিকেই নজর রাখা হবে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। তার পর থেকেই স্বাস্থ্যসাথীর ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।


২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। এই প্রকল্পে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হত। শুরুতে কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও পরে কার্যত সব পরিবারের জন্য প্রকল্পের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৮ সালে আয়ুষ্মান ভারত চালু করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা কার্যকর হয়নি। তৎকালীন রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পই সাধারণ মানুষের জন্য বেশি উপযোগী এবং বিস্তৃত।
কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের নিয়ম অনেকটাই আলাদা। ৭০ বছরের বেশি বয়স হলে আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে এই প্রকল্পের সুবিধা মেলে। তবে ১৬ থেকে ৬৯ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। বড় জমি, আয়কর, সরকারি বা বেসরকারি চাকরি, চারচাকা গাড়ি বা নির্দিষ্ট সম্পত্তি থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পের বাইরে চলে যেতে হয়।


ফলে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাওয়া বহু পরিবার এখন জানতে চাইছে, নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা কতটা বজায় থাকবে।
সরকারি চিকিৎসকদের একাংশও চাইছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যেন কোনও বঞ্চনা না হয়। সরকারি চিকিৎসক সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, প্রয়োজনের সময় সকলের জন্য উপযুক্ত এবং বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের মতে, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যখাতে অপ্রয়োজনীয় বেসরকারি নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন।
এদিকে বেহালা পশ্চিমের নবনির্বাচিত বিধায়ক চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের নাম সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় আয়ুষ্মান ভারতই চালু হবে, তবে স্বাস্থ্যসাথীর বর্তমান সুবিধা যাতে মানুষ হারিয়ে না ফেলেন, সে বিষয়ে দল সতর্ক। তাঁর আশ্বাস, সরকারি হাসপাতালে আগের মতোই বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালু থাকবে।
এখন নজর নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান— এই বদল সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বাংলার কোটি কোটি পরিবারের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর।







