নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছে গোটা দল। সরানো হয়েছে সমস্ত পদ থেকেও! যদিও এত কিছুর পরেও পার্থ নিজের বিশ্বাসে আটুট রয়েছেন। এবার সেই পার্থর পাশে এসে দাঁড়ালেন নিয়োগ দুর্নীতিতে CBI র্যাডারে থাকা আরও এক তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহা।
নিয়োগ দুর্নীতিতে সম্প্রতি জীবনকৃষ্ণ সাহার নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এরপরেই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতাদের নাম ও তাঁদের সুপারিশ তালিকা তুলে ধরে অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই তালিকায় নাম ছিল আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের। সেই অভিযোগের পরেই শুভেন্দুকে আইনি নোটিশ অপরূপার।
মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ঠিক তারপরেই ভোলবদল করলেন তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক। তৃণমূল বিধায়কের মুখে এখন বিরোধী স্বর। সিবিআইকে সব সত্যিটা বলে দেব। কারোর কাছ থেকে পাঁচ পয়সা নিইনি। এমনটাই জানিয়েছেন বিধায়ক।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার অয়ন শীলের পরিবারের সদস্যদের তলব করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়েছেন তাঁরা। আগামী শুক্রবার অয়ন শীলের স্ত্রী কাকলি শীল এবং ছেলে অভিষেক শীলকে তলব করা হয়েছে। পরিবারের নামে বিপুল সম্পত্তি নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই করেছিলেন অয়ন? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিয়োগ দুর্নীতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-সিবিআই একের পর এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিচ্ছে, সেই কারনেই নথি পুড়িয়ে প্রমান নষ্ট করার চেষ্টা। যদিও তৃণমূলের তরফে সিবিআইএর নথি উদ্ধার কে স্বাগত জানানো হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি একাধিক মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কড়া পদক্ষেপ। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। কারণ, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সম্পর্কে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলে যা ইচ্ছে তাই করবে। জমিদারি নাকি? যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। এরপরেই কড়া মন্তব্য করে ডিভিশন বেঞ্চ।