শনিবার সিকিম প্রশাসনের তরফে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬। তবে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূলত তিস্তা নদীর পাড় থেকেই একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সিকিম থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৬ জনের দেহ। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩০ জনের দেহ। এছাড়াও সেনা জওয়ান সহ এখনও ১৪২ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি।
মেগভাঙা ভারী বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা সিকিমের। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে হড়পা বান কার্যত ধ্বংস করে দিল সিকিমকে। সেখানে এখনও পর্যন্ত সেখানে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি নিখোঁজ ১০২ জন। তবে এরমধ্যে যেই ২২ জন সেনাকর্মীও নিখোঁজ হয়ে গেছিলেন, তাঁদের খোঁজ মিলেছে বলে সূত্রের খবর।
সিকিমের খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর নির্দেশেই উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। ইতিমধ্যেই এদিন ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "সিকিমের পাশে আমরা রয়েছি। আমরা সবধরনের সহায়তা করব। আমি উত্তরবঙ্গ প্রশাসনকেও অতি সতর্ক থাকতে বলেছি। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রস্তুতি কতদূর, তা জানার জন্য মুখ্য়সচিবকে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করতে বলেছি।"
অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন এবং নদীর উপর বাঁধ তৈরির ফল ভুগতে হচ্ছে সিকিম তথা উত্তরবঙ্গবাসীকে এই প্রশ্নই ঘুরছে। বন্যার প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত সেনা ছাউনি। নিখোঁজ ২৩ জন শ্রমিক।
সিকিমের এই ভয়ংকর অবস্থা দেখে রীতিমত উদ্বিগ্ন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিকিম প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিন তিনি লিখেছেন, "সিকিম সরকার চাইলে সব রকমভাবে পাশে রয়েছি।"
মেঘভাঙা বৃষ্টিরতে লোনক হ্রদ ফেটে হুড়মুড়িয়ে জল নেমে এসেছে তিস্তায়। যার ফলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তার জলস্তর। আর আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে সিকিমের উত্তর জেলা প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, আচমকা তিস্তার জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে সিকিমের রাস্তায় উঠে এসেছে জল। আর তাতেই ভেসে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন সেনার ২৩ জওয়ান।