নজরবন্দি ব্যুরো: প্রবল বর্ষণ ও মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম। মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে উত্তর সিকিমের চুংথাংয়ে দক্ষিণ লোনাক হ্রদে ব্যাপক জলস্ফীতি হয়। বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে তিস্তা সংলগ্ন এলাকায়। এই বিপর্যয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভাবিয়ে তুলছে পরিবেশবিদদের। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন এবং নদীর উপর বাঁধ তৈরির ফল ভুগতে হচ্ছে সিকিম তথা উত্তরবঙ্গবাসীকে এই প্রশ্নই ঘুরছে। বন্যার প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত সেনা ছাউনি। নিখোঁজ ২৩ জন শ্রমিক।
আরও পড়ুন: উত্তরে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা, জারি লাল সতর্কতা, কবে কমবে বৃষ্টি?


বাংল- সিকিমের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ভেসে গিয়েছে। তিস্তার জলস্তর বেড়েছে ১৫-২০ ফুট। এর ফলে উত্তরবঙ্গের তিস্তা পারের জেলাগুলিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বুধবার সকাল ১০ টায় তিস্তা ব্যারেজ থেকে ৮২৫২.৪০ ব্যারেজ জল ছাড়া হয়। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির গজলডোবায় তিস্তা ব্যারেজ থেকে উদ্ধার হল দুজনের মৃতদেহ। রাজগঞ্জের বিডিও পঙ্কজ কোনার জানিয়েছেন, দেহ দুটি স্থানীয় কারও নয়। সেগুলি তিস্তার জলেই ভেসে এসেছে। তিস্তা ব্যারেজ থেকে দেহ উদ্ধার থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সিকিমের বিপর্যয়ের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক সুত্রের খবর বাংলা-সিকিম সীমানার রংপোয় বিপর্যয় মোকাবিলায় সেনা নামাতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।



মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বিপুল জলরাশি তিস্তা নদী দিয়ে বয়ে চলেছে। নদীর তাণ্ডবে আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এই পরিস্থিতিতে তিস্তার ধ্বংসলীলার জেরে পুজোর মুখে সিকিম ঘুরতে যাওয়া বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন প্রতিবেশী রাজ্যেই। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ঠিক কত সংখ্যক পর্যটক সিকিমে আটকে পড়েছেন, তার সঠিক সংখ্যাও এখনও জানা যাচ্ছে না। জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ। ফলে ফেরার পথও আপাতত অবরুদ্ধ।
উত্তরাখণ্ডের পুনরাবৃত্তি সিকিমে? মানবসভ্যতার উন্নয়নের ফল ভুগছে সাধারণ মানুষ








