অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে! বাংলায় বিজেপি জেতার পর বাংলাদেশকে জবাব দিল্লির

বাংলায় বিজেপির জয়ের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব দিল্লি। অবৈধ বিদেশিদের ফেরানো ভারতের নীতি বলে জানাল বিদেশ মন্ত্রক, বাংলাদেশের সহযোগিতাও চাইল কেন্দ্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর ‘পুশ ইন’ মন্তব্যের জবাবে এবার সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করল দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়ে দিলেন, ভারতে অবৈধ ভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে নিজ নিজ দেশে ফেরানোই কেন্দ্রের নীতি। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতাও চাইল ভারত।

বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশ ইন’ করা হতে পারে। তিনি বলেন, ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ করলে ঢাকা সরকারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সেই মন্তব্য ঘিরেই কূটনৈতিক স্তরে জল্পনা তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অবৈধ ভাবে ভারতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ করা ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি। এই বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত ২৮৬০টিরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে বহু মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। রণধীরের কথায়, “আমরা আশা করছি, বাংলাদেশ দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই ইস্যু আরও বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে। কারণ, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচার ইস্যুই ছিল ‘অনুপ্রবেশ’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— একাধিক জনসভায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।

বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের শনাক্তকরণ ও আইন মেনে প্রত্যর্পণ। সেই আবহেই বাংলাদেশের তরফে ‘পুশ ইন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। ওই দিনই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ নীতি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে নতুন কৌশল দেখা যেতে পারে। ফলে দিল্লির এই বার্তাকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত