ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। প্রায় ৪০ বছরের পুরনো প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম বদলে অগস্ট মাস থেকেই চালু হতে চলেছে নতুন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বুকিং ব্যবস্থা। রেলের দাবি, এর ফলে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলাহীন। শুধু তাই নয়, ওয়েটিং টিকিট কনফার্ম হবে কি না, সেটাও এবার আগে থেকেই জানতে পারবেন যাত্রীরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল।
বৃহস্পতিবার রেল ভবনে আয়োজিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, পুরনো রিজার্ভেশন সিস্টেম থেকে নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় যেন যাত্রীদের কোনও অসুবিধা না হয়। টিকিট বুকিং, ক্যানসেলেশন বা অন্যান্য পরিষেবা যাতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চালু থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।


ভারতীয় রেল প্রথম প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম চালু করেছিল ১৯৮৬ সালে। এরপর যাত্রীসংখ্যা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একাধিকবার সেই সিস্টেম আপগ্রেড করা হয়েছে। ২০০২ সালে শুরু হয় অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা। বর্তমানে রেলের মোট টিকিট বুকিংয়ের প্রায় ৮৮ শতাংশই হয় অনলাইন মাধ্যমে।
এই ডিজিটাল রূপান্তরেরই সাম্প্রতিক উদাহরণ ‘রেলওয়ান’ সুপার অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে লোকাল ট্রেন থেকে দূরপাল্লার ট্রেন— সব ধরনের টিকিট বুক করা যায়। শুধু টিকিট বুকিং নয়, ট্রেন ট্র্যাকিং, খাবার অর্ডার, অভিযোগ জানানো, প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেনা বা অসংরক্ষিত টিকিট কাটার মতো একাধিক পরিষেবাও মিলছে একই প্ল্যাটফর্মে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে। রেলের দাবি, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এবার টিকিট কাটার আগেই যাত্রীরা জানতে পারবেন তাঁদের ওয়েটিং টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। অর্থাৎ আগে থেকেই টিকিটের সম্ভাব্য স্টেটাস জানা যাবে। ফলে যাত্রীরা আরও সচেতনভাবে বুকিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট কনফার্মেশন প্রেডিকশনের নির্ভুলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে এই ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভুলতা ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৪ শতাংশ।
নতুন আপগ্রেডেড সিস্টেমে আরও একটি বড় সুবিধা মিলবে দ্রুত রিফান্ড। টিকিট বাতিল করলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই টিকিট বুক করা যাবে বলেও দাবি রেলের।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় রেলের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় এটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হতে চলেছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন। তাই নতুন প্রযুক্তি চালু হলে যাত্রী পরিষেবার মান আরও অনেকটাই উন্নত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।







