বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে টলিউডের অন্দরেও। ইন্ডাস্ট্রির পুরনো সমীকরণ ভাঙছে, বদলাচ্ছে ক্ষমতার কেন্দ্র। কে কোন শিবিরে, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন— তা নিয়েই এখন স্টুডিওপাড়ায় জোর চর্চা। আর এই আবহেই অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে নতুন জল্পনা। গুঞ্জন ওঠে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের ইঙ্গিত পেয়েই নাকি রুদ্রনীলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। অবশেষে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ‘বুম্বাদা’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁকে রাজনৈতিক রঙে না দেখতে। তিনি লেখেন, “আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না।”


ফোনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও, সেই কথোপকথনের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন অভিনেতা। প্রসেনজিতের বক্তব্য, তিনিই কাউকে ফোন করেননি। বরং রুদ্রনীল ঘোষই তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই আমাকে ফোন করেছিল। বড় দাদা হিসেবে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য। আমি শুধু সেটুকুই করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”
দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজেকে মূলত রাজনৈতিক মেরুকরণ থেকে দূরে রেখেছেন। বাংলা সিনেমার অন্যতম বড় মুখ হিসেবে তিনি বরাবরই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডে যখন একের পর এক শিল্পী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা তৈরি হচ্ছে, তখন প্রসেনজিতের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা আরও বেড়ে যায়।
রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনকে ঘিরে অনেকে নানা ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছিলেন। টলিউডের অন্দরমহলের একাংশ মনে করছিল, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতেই হয়তো যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন অনেক তারকা। সেই প্রেক্ষিতেই প্রসেনজিতের এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টলিউডেও নতুন শক্তির উত্থান হতে পারে। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জায়গায় নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও প্রসেনজিৎ স্পষ্ট বার্তা দিলেন— তিনি নিজেকে শুধুই একজন শিল্পী হিসেবেই দেখতে চান, কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।







