বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার সামনে এল প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের পরিবারের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী পাল। তাঁর দাবি, তাপস পালকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে পরে একেবারে একা ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি জীবনের কঠিন সময়ে দল বা নেত্রীর কাছ থেকে কোনও সহানুভূতিও পাননি অভিনেতা। নন্দিনীর কথায়, “দিদি তাপসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।”
নন্দিনী পালের দাবি, তাপস পাল কোনওদিনই রাজনৈতিক হিসাব কষে চলতেন না। তিনি বলেন, “ও ধান্দাবাজ মানুষ ছিল না। মাথা দিয়ে নয়, সব কিছু অন্তর দিয়ে ভাবত। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত ওকে মূল্য দিতে হয়েছে।”


তখনও তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে রাজ্যে বামফ্রন্টের দাপট চলাকালীন সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বারবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাপস পালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। নন্দিনীর কথায়, “সেই সময়ে টালিগঞ্জের খুব কম মানুষই দিদির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাপস মানুষের জন্য ভাবত বলেই দিদির অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছিল।”
তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের হয়ে কাজ করার সময় একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাপস পালকে। নন্দিনী বলেন, “ওর ছবি মুক্তি পেলেও নানা বাধা তৈরি হত। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। তারপরেও মানুষ ওকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন।”
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলেই দাবি তাপস-পত্নীর। তাঁর বক্তব্য, “ক্ষমতায় আসার পর দিদি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন। তখন তাপসের প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছিল।”


চিটফান্ড এবং গরুপাচার ইস্যুতেও তাপস পাল নাকি সরব হয়েছিলেন বলে দাবি নন্দিনীর। তিনি বলেন, “চিটফান্ডের কোনও টাকা আত্মসাৎ করেনি তাপস। ও পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল।”
তবে চৌমুহা কাণ্ডে তাপস পালের বিতর্কিত মন্তব্যকে ভুল বলেই স্বীকার করেছেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, “ওই একটাই ভুল ছিল তাপসের। পরে ও নিজেও বুঝেছিল ভুল করেছে।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাপসকে ঘিরে নানা ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।
নন্দিনী পালের মতে, বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি ছিল। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, “এতদিন রাজ্য চালানো হয়নি, একটা ক্লাব চালানো হয়েছিল।” এমনকি বামফ্রন্ট আমলের শাসনকেও তিনি বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ভাল বলে মন্তব্য করেন।
সবচেয়ে আবেগঘন অভিযোগটি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। নন্দিনীর দাবি, জীবনের শেষদিকে তাপস পাল একবার মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফোন ধরা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি চাই দিদি অনেকদিন বেঁচে থাকুন, যাতে নিজের ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারেন।”
প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনওদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা করতে পারবেন না। আর সেই কারণেই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলকে তিনি প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন।







