বাংলায় বিজেপি সরকারের সূচনার মঞ্চ থেকেই জাতীয় সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার পর প্রথম ভাষণেই তিনি জানিয়ে দিলেন, “দেশের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস নয়।” তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বাংলাকে আর “অনুপ্রবেশকারীদের মুক্তাঞ্চল” হতে দেওয়া হবে না। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে “প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে তাড়ানো হবে” বলেও ঘোষণা করেন শাহ।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচার ইস্যুই ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ। নির্বাচনী প্রচারে একাধিকবার সীমান্ত সিল করা, বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া এবং জাতীয় সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন অমিত শাহ। বিজেপির দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তৃণমূল সরকারের “প্রশ্রয়েই” এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করার পর ফের সেই একই ইস্যু সামনে আনেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, “আমরা সোনার বাংলা গড়তে এসেছি। সেই বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের কোনও জায়গা নেই।”
শাহের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিজেপি কোনও আপস করবে না। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষকে আমি কথা দিচ্ছি, আগামী পাঁচ বছরে সব অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে তাড়ানো হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের মুহূর্তেই বিজেপি স্পষ্ট করে দিল যে সীমান্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুই আগামী দিনে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার হতে চলেছে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চলেছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, সীমান্ত এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে তৃণমূল সরকার কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব বিএসএফের এবং কেন্দ্র সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।


এদিন অমিত শাহ সেই বিতর্কেরও জবাব দেন। তাঁর কথায়, “সীমান্ত সিল করা এতদিন জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আটকে ছিল। এবার সেই কাজও হবে।” তিনি আশ্বাস দেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিরোধীরা প্রায়শই বিজেপির বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তোলে। সেই প্রসঙ্গও এদিন উত্থাপন করেন শাহ। তাঁর দাবি, “বিজেপি মেরুকরণের জন্য এই বিষয় তোলে না। জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থেই আমরা এই লড়াই করছি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের মুহূর্তে শাহের এই বক্তব্য কার্যত আগামী প্রশাসনিক রূপরেখার ইঙ্গিত দিল। সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ— এই বিষয়গুলি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



