বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির তলব ঘিরে জারি রইল টানাপোড়েন। তৃতীয়বারের মতো সিআইডির ডাকে সাড়া দিলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তার আগেই তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে সময় চেয়ে নিলেন তিনি।
সিআইডি সূত্রে খবর, বিধায়কদের সই জালকাণ্ডের তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন ভবানীভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর তরফে একটি চিঠি পৌঁছয় তদন্তকারীদের কাছে। সেখানে জানানো হয়, তিনি বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন এবং কলকাতার বাইরে থাকায় এদিন হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।


উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই দিনই কলকাতায় তদন্তে নতুন পদক্ষেপ করে সিআইডি। কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
তদন্ত সূত্রের দাবি, জাল সই-কাণ্ডে যে বিতর্কিত চিঠি সামনে এসেছে, তাতে ওই কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই নথি ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য সেখানে যান সিআইডি আধিকারিকরা।
একদিকে কালীঘাটে দলীয় কার্যালয়ে তদন্ত, অন্যদিকে অভিষেকের তৃতীয়বার হাজিরা এড়ানো— এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।


সূত্রের খবর, অভিষেক তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়টি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। সেই কারণেই তদন্তে সহযোগিতা করার ইচ্ছা জানিয়ে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
এর আগে দু’বারও সিআইডির তলব এড়িয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ফলে তৃতীয়বারও হাজিরা না দেওয়ায় তদন্তের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখন নজর সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে তলব করা হবে কি না, নাকি তদন্তকারী সংস্থা অন্য আইনি পথ বেছে নেবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



