বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠানে জাঁকজমকের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলার বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতের বহু পরিচিত মুখকেও। আর সেই তালিকায় রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী থেকে মমতা শঙ্কর— একাধিক তারকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে শনিবারের ব্রিগেড শুধু রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, কার্যত তারকাখচিত এক মহাসমাবেশে পরিণত হতে চলেছে।
বিজেপির এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলতেই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই বাংলায় বিজেপির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। “মোদির সেনাপতি” হিসেবে তাঁর প্রচার আজও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। চলতি নির্বাচনের প্রচারেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার ঐতিহাসিক মুহূর্তে ‘মহাগুরু’র উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।


শুধু রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ তারকারাই নন, পদ্ম সম্মানে ভূষিত বাংলার শিল্পীদের কাছেও আমন্ত্রণ গিয়েছে বলে খবর। সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর, সেতারশিল্পী পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তেজেন্দ্র নারায়ণের কথাও হয়েছে এই অনুষ্ঠান নিয়ে।
মমতা শঙ্কর ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে শনিবারের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের পাশাপাশি টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও থাকতে পারেন ব্রিগেডে। বিজেপি নেত্রী ও অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় তো থাকছেনই। এছাড়া অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই এই আমন্ত্রণ।


দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেতা ঋষি কৌশিককেও অনুষ্ঠানে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি উপস্থিত থাকতে পারেন টেলি অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুও। উল্লেখযোগ্য বিষয়, অঞ্জনা বসু একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবুও বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বজায় রয়েছে।
এ ছাড়াও এবারের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়া একাধিক তারকা-রাজনীতিকও শপথ নেবেন। সেই তালিকায় রয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক পালাবদলের এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক জগতের এত মানুষের উপস্থিতি কার্যত স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বাংলার ক্ষমতার পালাবদল এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই— তার প্রভাব পৌঁছে গিয়েছে টলিউড ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও।







