‘আমি নয়, আমরা’— বিজেপি সরকারের নীতি স্পষ্ট করলেন বাংলার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘আমি নয়, আমরা’ নীতিতেই চলবে বিজেপি সরকার। দুর্নীতি তদন্তে কমিশনের ঘোষণাও করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার তাঁর প্রথম বার্তাতেই উঠে এল দলগত নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত। শুভেন্দুর স্পষ্ট ঘোষণা, “আমি নয়, আমরা”— এই নীতিতেই চলবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল আমলের দুর্নীতি এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনাগুলির তদন্তে কমিশন গঠন করা হবে।

বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিধায়ক বৈঠকের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপির শক্তি হল দলগত সিদ্ধান্ত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’ নীতিতে কাজ করবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের পরই এই বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনে সমষ্টিগত নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিতে চাইলেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন উন্নয়ন এবং সুশাসনের আশায়। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা একে একে পূরণ করার চেষ্টা করবে নতুন সরকার। বিজেপির নির্বাচনী ‘সঙ্কল্প পত্র’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলিও ফের সামনে আনেন শুভেন্দু। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছিল, তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মহিলাদের উপর যত অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে, সব কিছুর তদন্তে কমিশন গঠন করা হবে।” পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগগুলির তদন্তেও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে পৃথক কমিশন বসানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর দাবি, “যারা দোষী, তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লক্ষ্যও এদিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ইতিবাচক কাজ এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থন আদায় করতে চায় বিজেপি।

নতুন সরকারকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে “নতুন করে গড়ে তোলার” ডাকও দেন তিনি। শুভেন্দুর আশ্বাস, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বার্তাই দিতে চেয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের বৈঠকে আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সম্মান জানাতে সব নবনির্বাচিত বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে এক মিনিট হাততালি দেওয়ার অনুরোধ করেন শুভেন্দু। দলীয় বিধায়কেরাও সেই আহ্বানে সাড়া দেন।

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দুর এই প্রথম বার্তাকেই আগামী প্রশাসনিক দিশার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত