ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের একাধিক জেলায় অশান্তির আবহ তৈরি হতেই এবার কঠোর অবস্থান নিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জেলা পুলিশ সুপারদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকায় এলাকায় টহল বাড়াতে এবং অশান্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কোনও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট এসপিদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে থানার ওসিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাতেও দ্রুত অভিযুক্তদের ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসা দমনে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


সোমবার ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং হামলার অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও শাসকদলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। পাল্টা বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তুলেছে গেরুয়া শিবির।
শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, ইতিমধ্যেই তিনটি খুনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে কমিশন সূত্রের দাবি। অশান্তি রুখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ বার্তায় স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে শুধু স্থানীয় পুলিশ নয়, শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের উপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









