ভোটের ফল প্রকাশের পরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত। শুধু তিনিই নন, আহত হয়েছেন আরও দুই পুলিশকর্মী এবং দুই সিআরপিএফ জওয়ান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই থমথমে গোটা এলাকা। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা বোমা এবং কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল প্রশাসনের অন্দরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর আসে। অভিযোগ, একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই দুষ্কৃতীরা আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে।


পুলিশের দাবি, একটি বাড়ির ভিতর থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেই সময় ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েতের পায়ে গুলি লাগে। এছাড়াও এক মহিলা কনস্টেবল-সহ আরও দুই পুলিশকর্মী আহত হন। গুলিবিদ্ধ হন সিআরপিএফের দুই জওয়ানও।
আহতদের প্রথমে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা রয়েছে। বুধবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।


নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ভোটের ফল প্রকাশের পর সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তার মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। সন্দেশখালির এই ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, কোথাও রাজনৈতিক হিংসা, ভাঙচুর বা পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।







