মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানালেন, বাংলার নবনির্বাচিত সাংসদরা কেউ পার্লামেন্টে বসে থাকার জন্য যাননি। তাঁরা প্রত্যেকেই জনবিরোধী বিলের বিরোধিতা করবেন। পাশাপাশি, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়েও আওয়াজ তুলবেন।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা ২৯ না, ৩৫ আসনে জিতেছি। নির্বাচন কমিশন বাকি আসনগুলোতে লুঠ করে নিয়েছে। দেশ পরিবর্তন চেয়েছিল। বিজেপিকে চায়নি। অগণতান্ত্রিকভাবে সরকার গড়তে চাইছেন মোদীবাবু! তাঁর উচিৎ অন্য কাউকে ছেড়ে দেওয়া।"
তৃণমূল সূত্রে খবর, এবারের লোকসভায় তাঁদের যে মূল ট্যাগলাইন ছিল অর্থাৎ 'জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন', বা সংক্ষেপে 'জনগর্জন', এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই মস্তিষ্কপ্রসূত। শুধু তাই নয়, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ মহলে কান পাতলে জানা যায়, এই লোকসভার আগে দৈনিক প্রায় ১২-১৬ ঘন্টা কাজ করেছেন তিনি।
হয়তো একই ভাবনা ছিল শুভেন্দু বা সুকান্তের মাথাতেও। কিন্তু এবার বাংলায় তৃণমূলের যে জয়জয়কার হয়েছে তাতে তাবড় তাবড় পদ্ম নেতারাও হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আগামীতে দিলীপ ঘোষ কি করেন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
একুশের বিধানসভা থেকে যে পরম্পরা শুরু হয়, তা জারি ছিল সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও। বাংলায় ভোট প্রচারে অহরহ আসতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে।
এবার অধীর রঞ্জন পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৯৪ ভোট। সেখানে ইউসুফ পাঠান পেয়েছেন ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৫১৬ ভোট। বিজেপির নির্মল কুমার সাহা পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৮৬ ভোট। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি ২০১৯ সালের চেয়ে প্রায় ২ লক্ষের বেশি ভোট পাওয়াতেই অধীর হেরে গেলেন।
এবার সৌমিত্র পেলেন ৬ লক্ষ ৮০ হাজার ১৩০ ভোট। সেখানে সুজাতা পেয়েছেন ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৬৩ ভোট। সৌমিত্র জিতলেন ৫ হাজার ৫৬৭ ভোটে। সুজাতার লড়াইয়ের প্রশংসাও করলেন তিনি। বললেন, "সুজাতা খুব ভালো লড়াই করেছে।"