এবারের লোকসভায় যে বহরমপুর থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী হেরে যাবেন তা বোধ হয় অনেকেই ভাবতে পারেননি। অথচ তাই হল। শুধু তাই নয়, রাজনীতিতে একেবারে নবাগত ভিন রাজ্যের বাসিন্দা তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে অধীরের হার আরও আশ্চর্যজনক। তবে, ঐ যে, রাজনীতিতে সবই সম্ভব। দীর্ঘ ২৫ বছর সাংসদ থেকে অবশেষে অধীর-রাজ শেষ হল বহরমপুরে।
আরও পড়ুন: অভিষেকের প্রশংসা, বিজেপি নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন! বিষ্ণুপুর জিতে বেলাগাম সৌমিত্র


এবার অধীর রঞ্জন পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৯৪ ভোট। সেখানে ইউসুফ পাঠান পেয়েছেন ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৫১৬ ভোট। বিজেপির নির্মল কুমার সাহা পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৮৬ ভোট। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি ২০১৯ সালের চেয়ে প্রায় ২ লক্ষের বেশি ভোট পাওয়াতেই অধীর হেরে গেলেন।

ফলাফল প্রকাশের দিনেও অধীর বলেন, “আমি হিন্দুও না, মুসলিমও না। এখানে ভোট মেরুকরণ হয়েছে। আমি ধরমনিরপেক্ষ রাজনীতি করি। সেই কারণেই হারতে হল।” অর্থাৎ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থী ইউসুফ পাঠানকে ঢালাও ভোট দিয়েছেন সেখানের বাসিন্দারা। আবার হিন্দুদের সম্পূর্ণ ভোটটা এবার টেনে নিয়েছে বিজেপি।



দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। ভোটের আগে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হেরে গেলে বাদাম বেচব। কিন্তু, সত্যি সত্যি অধীর চৌধুরী কী করবেন? বুধবার তিনি জানালেন, “রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু তো শিখিনি। সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ব্যবসাও প্রায় শেষ। দেখি কি করব। কিছু তো করতে হবে।”
সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আগামী একমাসের মধ্যে দিল্লির বাড়ি ছাড়তে হবে। মেয়েটা ওখানে থাকে। পড়াশোনা করে।” এবার অধীরের প্রচারে একবারও দেখা যায়নি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের। ন্যায় যাত্রার সময় কোনও রকম বাংলা ছুঁয়ে যান রাহুল গান্ধী। এ প্রসঙ্গে অধীর বলেন, “আমি জানি না কেন আসেনি। নিশ্চয়ই মনে করেনি তাই আসেনি। দিল্লির ব্যাপার আমি বলতে পারব না।”
রাজনীতির বাইরে অন্য কিছু শিখিনি, সরকারের সঙ্গে লড়তে গিয়ে ব্যবসাও শেষ, ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় অধীর
ফলাফলের একদিন পরে অনেকটাই হতাশ দেখাল অধীর রঞ্জনকে। তাঁর হার নিয়ে আক্ষেপ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। অধীর অবশ্য রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “দিদির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। আমি একটাই অনুরোধ করব, বিরোধী তো প্রায় শেষ। কংগ্রেস করার অপরাধে যেন কাউকে মারা না হয়। বাংলায় সন্ত্রাস বন্ধ হোক।”









