তাঁর নেতৃত্বে বিগত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে যে সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল তা কার্যত ধরে রাখতে পারেনি পদ্ম শিবির। হারের পরেই নিজের কেন্দ্র বদল প্রসঙ্গে কাঠিবাজির অভিযোগ আনেন দিলীপ ঘোষ। আর এবার দলের সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
আরও পড়ুন: হাজিরা দেননি, আগামী সপ্তাহে আবার ই ডি দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে ঋতুপর্ণাকে

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জয় পান দিলীপ ঘোষ। অথচ এইবার তাঁকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে। ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল, মেদিনীপুরে এবারের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালও হারলেন, কেন্দ্র বদলে হারতে হল দিলীপ ঘোষকেও। ফলে জেতা দুটি আসন এইবার হারাল বিজেপিকে। সরাসরি কিছু না বললেও হারের পর থেকে দিলীপের মনমেজাজ যে খারাপ তা কার্যত স্পষ্ট।
এদিন দীলিপ সাফ বলেন, “২০১৯ সালের লোকসভায় এবং ২০২১ সালের বিধানসভায় যা ফলাফল হয়েছিল বিজেপির, দেখা যাচ্ছে বিগত ৩-৪ বছরে কোনও অগ্রগতি তো হয়নি, উল্টে সংগঠন একেবারে শুয়ে পড়েছে! জিতলে মালা পড়বো আর হারলে দায় নেব না, তা হয় না। এই হারের দায় নেতৃত্বকে নিতেই হবে।”

রাজনৈতিক মহলে একটা গুঞ্জন এই মুহূর্তে রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী, লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছিলেন সেখানেই তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অগ্নিমিত্রা পাল কে মেদিনীপুরে নিয়ে এসে দিলীপ ঘোষ কে বর্ধমান দুর্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল শুভেন্দু পরোক্ষভাবে সমর্থন ছিল বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারেরও। যদিও দিলীপ ফিরে যাওয়ার পর সুকান্ত মজুমদার বলেছেন শুধু তিনি নন তার পরিবারও এই হারে অত্যন্ত ব্যথিত।
নেতৃত্বকে এই হারের দায় নিতেই হবে, সংগঠন শুয়ে পড়েছে, দিলীপের নিশানায় সুকান্ত-শুভেন্দু?

দিলীপ ঘোষ নিজের হার সম্পর্কে আগেই বলেন যে, গোটা দেশে বিজেপির ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে তার খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাতেও। তবে তিনি নিজে হয়তো ভেবেছিলেন ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মার জোরে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন থেকে তিনি জিতে যাবেন। হয়তো একই ভাবনা ছিল শুভেন্দু বা সুকান্তের মাথাতেও। কিন্তু এবার বাংলায় তৃণমূলের যে জয়জয়কার হয়েছে তাতে তাবড় তাবড় পদ্ম নেতারাও হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আগামীতে দিলীপ ঘোষ কি করেন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



