শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির শিকরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবু আশা দেখাতে অক্ষম হচ্ছেন তাঁরা। কারণ দুর্নীতি বিষবৃক্ষের মতো ছড়িয়ে গেছে। এক এক বার এমন তথ্য উঠে আসছে যা দেখে কার্যত ভাষা হারিয়ে ফেলছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিচক্ষণ মানুষ। এবার প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় ২০১৬-র পুরো প্যানেল বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিলেন ৪০ টি ও এম আর শিটের নাম, নম্বর সহ সমস্ত তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা করতে হবে। হাইকোর্ট এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন কে পাঠিয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। কার নির্দেশ অবৈধ নিয়োগের জন্য আদালতে আবেদন কমিশনের? কে করল আবেদন? নেপথ্যে কার মস্তিস্ক রয়েছে? সিবিআইকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এটা একটা সংগঠিত অপরাধ।
এসএসসি মামলায় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির হয়ে সওয়াল করছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বলেন, "পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেলে ঢোকাব সেটা যদি আদালতের মাইন্ডসেট হয়ে থাকে, তবে আপত্তি নেই। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে?" এই সওয়াল শুনে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রশংসায় মুখর হন বিচারপতি।
প্রতি ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি তাঁর নির্দেশে চাকরি গেছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের। এদিন বিচারপতি বলেন,দুর্নীতিতে যুক্ত কমিশনের সদস্যরা। স্কুল সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য তাঁর বোনকে চাকই পাইয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। অভিযুক্তদের দুর্নীতির ফল ভুগতে হবে। একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।