নজরবন্দি ব্যুরোঃ তদন্তকারী সংস্থার বিস্ফোরক দাবিতে আবারও সামনে এল, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ মামলায় এমন অনেকে আছেন যারা মাত্র একটি বা দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ৫০ নম্বর বা তারও বেশী নম্বর পেয়েছে। গাজিয়াবাদের একটি হার্ড ডিস্ক থেকে এমনই মোড় ঘোরানো তথ্যের হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই মঙ্গলবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিলেন ৪০ টি ও এম আর শিটের নাম, নম্বর সহ সমস্ত তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা করতে হবে। হাইকোর্ট এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন কে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ওয়েটিং লিস্টেও দুর্নীতি হয়েছে, শুনেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বিচারপতি


বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে মঙ্গলবারের মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশনকে ৪০ জনের ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে। সেখানে উল্লিখিত নামের ব্যক্তিরা চাইলে মামলা লড়তে পারেন, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়াছে। বিচারপতি এদিন জানিয়ে দেন, এই ৪০ জন ব্যক্তি লিখিত আকারে নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবেন। বিচারপতি জানান, এটা কোন ভূতের কাজ নয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার সিবিআই আদালতে দাবি করে গাজিয়াবাদের সার্ভার থেকে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বেশ কিছু উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করা হয়েছে যেখানে দেখা গেছে , সেখানে এমন অনেকে আছেন যাঁরা ওএমআর শিটে মাত্র একটি বা দু’টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ পেয়েছেন ৫০ এর বেশি। এদিন এজলাসে সিবিআই তথ্য দেয়, উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিটে দেখা যাচ্ছে ১০ জন পরীক্ষার্থী শূন্য পেয়েছেন পরীক্ষায়। কিন্তু তাঁদের কমিশনের সার্ভারে নম্বর দেওয়া হয়েছে ৫৩। বাকিরা যাঁরা ১ বা ২ নম্বর পেয়েছেন, তাঁদের কারও নম্বর ৫১, কারও ৫২।
১ এর বদলে ৫০, এটা কোনো ভূতের কাজ নয়! বেলাগাম দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়



তদন্তকারী অফিসার জানান, ২১ হাজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজারের ওএমআর শিট বিকৃত করা হয়েছে।মঙ্গলবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের তালিকার ওয়েটিং লিস্টে থাকা এমন ২০ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ৯ নম্বর বেড়ে ৪৯ হয়েছে। জিয়াবাদ থেকে যে সমস্ত তথ্য সিবিআই পেয়েছে। তার সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দফতরে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখতেই প্রচুর গরমিল পাওয়া গেছে। যা ইতিমধ্যেই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সিবিআইয়ের বক্তব্য, প্রথম ভাবা হয়েছিল মেধা তালিকায় গরমিল রয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ওয়েটিং লিস্টেও দুর্নীতি হয়েছে। ফলত এসএসসি-র উদ্দেশে হাই কোর্ট মন্তব্য করে, ‘‘জল থেকে কাদা সরিয়ে জলটাকে স্বচ্ছ করুন।’’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তপ্রক্রিয়া অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। এখন যে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা শুধু বিচারের আশায় সময় গুনছেন।








