কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন হোক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। প্রতি ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি তাঁর নির্দেশে চাকরি গেছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের। শুধু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বিচারপতি। সিবিআই যাতে কোনপ্রকার ঢিলেমি না দেয় এই তদন্তে তার জন্যে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছেন। রাজ্যের বঞ্চিত সমাজ তাঁকে নাম দিয়েছেন আইনের বরপুত্র।

আরও পড়ুনঃ সার্ভার রুমের দায়িত্ব নিয়েছে সিবিআই, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ফিরল এসএসসি মামলা

বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে সাম্প্রতিককালে যেসকল আলোড়ন ফেলে দেওয়া বা সাড়া জাগানো মন্তব্য এসেছে, তার নব্বই শতাংশ-ই এই বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির ১৭ নম্বর এজলাস থেকে। এখন টেট এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতি আলোচনার শিখরে রয়েছে। রাজ্যের তাবড় মন্ত্রী থেকে সরকারি আধিকারিক সবাই বাধ্য হচ্ছেন তাঁকে সমীহ করতে। রেয়ার পাচ্ছেন না সিবিআই আধিকারিকরাও। বিভিন্ন সময় এই অভিজিৎ গাঙ্গুলির মুখ থেকে এসেছে বিভিন্ন মূল্যবান মন্তব্য। আসুন দেখে নিই তাঁর ৫টি অমূল্য বক্তব্য।

কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য

১) কিছুদিন আগেই তাঁর ১৭ নম্বর এজলাস বয়কট করেছিলেন আইনজীবীরা। সেই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আপনার হয়তো রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দেখলে আদালত চুপ থাকবে না। যে দুর্নীতি করবে, যে রাজনৈতিক দলের হোক, ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমার মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন। মরতে রাজি। কিন্তু দুর্নীতি দেখে চুপ থাকবে না আদালত। যারা দুর্নীতি করছে তাদের সঙ্গে শুধু শত্রুতাই থাকতে পারে।”

কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য
কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য

২) ২৫ বছর ধরে বেতন পাননি রাজ্যের এক শিক্ষিকা। দীর্ঘ ৩৬ বছর টানা লড়াই করেছেন। শেষে মামলা আসে ১৭ নং এজলাসে। ৩৬ বছর ধরে চলা মামলার সুরাহা করেন অভিজিৎ গাঙ্গুলি। ৭৬ বছরের বৃদ্ধা শিক্ষিকাকে সব বেতন এরিয়ারের সঙ্গে মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দেন বিচারপতি । রায় ঘোষণার পর এজলাসে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা। তখন অভিজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, “আমার ঘরে আসা বৃদ্ধ নাগরিককে খালি হাতে ফেরাতে পারি না।”

3 21

৩) মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ মিলতেই মন্ত্রীকন্যাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও বেতন ফেরতের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি। ২০২০ সাল থেকে যাবতীয় বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এখানেই ক্ষান্ত থাকেননি বিচারপতি। অঙ্কিতার ফাঁকা পোস্টে ন্যায্য প্রার্থী মামলাকারী ববিতা সরকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অঙ্কিতা কে স্কুলে ঢুকতে বারন করে দেন।

কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য
কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য

৪) রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত করছে সিবিআই। কিন্তু সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায় বলেন, “ডজন খানেক সিবিআই তদন্ত শেষে নোবেল পুরস্কার হবে! মনে হচ্ছে সিবিআই-এর থেকে সিট ভাল। টানেলের শেষে কোনও আলো দেখতে পাচ্ছি না। নভেম্বর মাসে প্রথম সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলাম। তারপর কী হয়েছে? কিছুই নয়।”

৫) এসএসসি মামলায় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির হয়ে সওয়াল করছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেলে ঢোকাব সেটা যদি আদালতের মাইন্ডসেট হয়ে থাকে, তবে আপত্তি নেই। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে?” এই সওয়াল শুনে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রশংসায় মুখর হন বিচারপতি। তিনি বলেন, “এটা দেখে ভাল লাগছে একজন রাজনীতিবিদ যে কোনও সময়ে ভাল আইনজীবী হতে পারে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত