শনিবার দেবীপক্ষের সূচনাকাল। আর ঠিক সেই দিনই তামিলনাড়ুর রাজধানী শহর চেন্নাইয়ে একই মঞ্চে দেখা যাবে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ দলগুলিকে। মহিলা অধিকার সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএম, এনসিপি, ডিএমকের মহিলা নেত্রীরা।
ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী বৈঠক কবে করা যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। রাহুল ছাড়াও কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারও ফোন করেছেন তৃণমূলনেত্রীকে। বৈঠকের দিন কবে ঠিক হল?
বিজেপি দলের ওপর যে সংঘের প্রভাব রয়েছে, এটা কোনও নতুন কথা নয়। কারণ, গেরুয়া শিবিরের তাবড় তাবড় নেতারা প্রায় সকলেই কোনও না কোনও সময় সংঘের সাথে ওপতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। আগামী লোকসভায় বিজেপিকে হারাতে হলে যে প্রথমে আরএসএস-কে আটকাতে হবে তা বিলক্ষণ বুঝরে পারছেন নবগঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। আর তাই তো, বিরধী নেতারা সাফ জানালেন, বিজেপি বা মোদী কোনও ফ্যাক্টরই নয়, ঠেকাতে হবে সংঘকে। তবেই নাকি কেন্দ্রে সরকারের পতন অনিবার্য!
আগামী বছর লোকসভা ভোট। আর লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে নব গঠিত বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া', ক্রমেই এই দুই যেন বিষম বিড়ম্বনার বিষয় হয়ে উঠছে বামফ্রন্টের জন্য! কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলাতেই পরিপন্থী ফরোয়ার্ড ব্লক। অন্তত নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য তো বটেই। অন্যদিকে, সিপিআইএম কংগ্রেসের সঙ্গে রাজ্যে কিংবা সর্বভারতীয় স্তরে হাত ধরাধরি করেই চলতে চায়। তাহলে, একটি শরিক দলের এই ভিন্ন অবস্থান কিন্তু বামফ্রন্টের অন্দরেই কিছু প্রশ্নকে উস্কে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
আগামী লোকসভায় বিজেপিকে হারাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে আবার INDIA জোটের সমন্বয় কমিটিতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআইএম। তবে, সমন্বয় কমিটিতে না থাকলেও জোটের একাধিক শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করছেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।
'ইন্ডিয়া' জোটের প্রথম সমন্বয় বৈঠকে হাজির থাকতে পারলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তাঁকে তলব করেছিল ইডি। অভিষেক না থাকায় তাঁর চেয়ার খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বৈঠকে উপস্থিত বাকী রাজনৈতিক দলগুলি। এদিকে কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং রাজ্য সিপিআইএমের সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কিন্তু অভিষেককে তলব প্রসঙ্গে ভিন্ন মত প্রদর্শন করলেন। তাহলে কি তাল কাটছে জোটের?
বুধবার নয়া দিল্লিতে 'ইন্ডিয়া' জোটের প্রথম সমন্বয়ে বৈঠক। আবার সেই একই দিনে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। এখন কী করবেন অভিষেক? তা নিয়ে কিন্তু বিস্তর জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। অভিষেক কি ইডির দফতরে উপস্থিত থাকবেন নাকি দিল্লিতে যোগ দেবেন 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে? এটা কিন্তু এখন লাখ টাকার প্রশ্ন! তবে, তৃণমূলের তরফে সাফ বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তের মুখোমুখি হতে ভয় পান না এবং সেটাই নাকি প্রমাণ হয়ে যাবে আগামীকাল।