নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি দলের ওপর যে সংঘের প্রভাব রয়েছে, এটা কোনও নতুন কথা নয়। কারণ, গেরুয়া শিবিরের তাবড় তাবড় নেতারা প্রায় সকলেই কোনও না কোনও সময় সংঘের সাথে ওপতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। আগামী লোকসভায় বিজেপিকে হারাতে হলে যে প্রথমে আরএসএস-কে আটকাতে হবে তা বিলক্ষণ বুঝরে পারছেন নবগঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। আর তাই তো, বিরধী নেতারা সাফ জানালেন, বিজেপি বা মোদী কোনও ফ্যাক্টরই নয়, ঠেকাতে হবে সংঘকে। তবেই নাকি কেন্দ্রে সরকারের পতন অনিবার্য!
আরও পড়ুনঃ কানাডা বিতর্কে ভারতকে সমর্থন বাংলাদেশের, ‘খুনিদের আখড়া’ বলে মন্তব্য ঢাকার
প্রসঙ্গত, শুক্রবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করা হয় বিরোধী জোটের পক্কঝ থেকে। সেখানে প্রায় ৫০টির বেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে দায়িত্ব দেওয়া হল বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য। ২০টি গণ সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচার চালাবে বলে সূত্রের খবর। কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিং জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় সংঘ পরিবার ও বিজেপির মিথ্যাচারের মোকাবিলা করতে একটি ‘টিম’ তৈরি করতে হবে। কীভাবে এই মিথ্যাচারের মোকাবিলা সম্ভব দ্রুত সেই রণকৌশল ঠিক করতে হবে ইন্ডিয়া জোটকে।

আগামী বছর লোকসভার আগে কোমর বেঁধে লড়াইয়ের ময়দানে প্রস্তুত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যেই ২৮টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছে জোট। তিনটি বৈঠকও হ্যে গিয়েছে। গঠন করা হয়েছে একটি সমন্বয় কমিটি। এবার রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন সমঝোতা হবে। সেখানেই মূল দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির ওপর।

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং বলেছেন, “সংঘ পরিবার গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না। তাদের বিচারধারা এখনও ১০০ বছর পুরনো। কিন্তু সেই সংগঠনই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিচালনা করছে। আগে সেই সংগঠনের মোকাবিলায় সমস্ত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনকে ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে আনতে হবে।”
লোকসভায় BJP কোনও ফ্যাক্টরই নয়! RSS-কে আটকানোই মূল উদ্দেশ্যে INDIA জোটের?
লোকসভার আগে সময় বলতে ৭-৮ মাস। বিজেপিও তাঁদের নীল নকশা প্রস্তুত করে ফেলেছে। চন্দ্রযান সাফল্য ও জি-২০-কে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী দিনে আরও একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তাছাড়া জানুয়ারির গোড়াতেই উদ্বোধন হবে অযোধ্যার রাম মন্দির। সব মিলিয়ে বিজেপি বা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে হলে যে প্রচুর পরিকল্পনা প্রয়োজন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বিরোধী নেতারা। আর সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রথম নিশানা আরএসএস, পরে বিজেপি। তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল শুক্রবারের বৈঠকে।




