তৃণমূলের নানুর পার্টি অফিস থেকে মুছে ফেলা হল একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম ও ছবি। ফলে, একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে, তাহলে কি অনুব্রত সত্যিই অতীত হয়ে গেলেন তৃণমূলের জন্য? লাল মাটির বাতাসে কান পাতলে আগে শোনা যেত, অনুব্রত মণ্ডলের কথায় নাকি সেখানে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়! অথচ, সেই হুংকার, সেই প্রতাপ কিছুই আর দেখা যায় না বিগত এক বছর ধরে।
অনুব্রত জামিন মামলার নয়া মোড়! এবার জামিন মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে নোটিস দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে সিবিআইয়ের কাছ থেকে নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, অনুব্রত জামিন মামলায় তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে আছে? জানা গিয়েছে, বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস ও বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর এজলাসে এদিন মামলার শুনানি ছিল।
বীরভূমের বাঘ অনুব্রত মণ্ডল, ওরফে কেষ্ট! যার নাম শুনলে এক সময় বাঘে গরুতে একঘাটে জল খেত! বীরভূমের তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা পুলিশকেও বোম মারার হুমকি দিয়েছিলেন! বিরোধীদের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে চর্চা লেগেই থাকত। এবার সেই বীরভূমের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির বাজেয়াপ্ত করা প্রায় ১১ কোটির টাকার সম্পত্তির হিসেব দিল ইডি।
জল্পনা চলছিলই লাল মাটির জেলা পরিষদের সভাধিপতি হতে পারেন অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা কাজল শেখ। আর এবার সব জল্পনার অবসান। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হলেন কাজল ঘোষ।
বর্তমানে দিল্লি তিহাড় জেলে রয়েছেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু অনুব্রত বীরভূমে না থাকলেও সেখানে এখনও বেহাল অবস্থা পদ্ম শিবিরের! কিন্তু আসন্ন পঞ্চায়েতের আগেই অনুব্রতহীন বীরভূমে জমি শক্ত করতেই হবে গেরুয়া শিবিরকে। আর তাই এবার জমি শক্ত করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক বৈঠকে বসছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
গরুপাচার মামলায় বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে রয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল। এর আগেও একাধিকবার অনুব্রত কন্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। যার জেরে আদালতে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল কেষ্ট ও তাঁর কন্যাকে। বারংবার জামিনের আর্জি জানিয়েও মেলেনি জামিন। এহেন পরিস্থিতিতে ফের আদালতে কেষ্ট কন্যার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করল ইডি।