কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর জল্পনা, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “বিশেষ বিশেষ এমপিদের” আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই হাজির ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিরোধী দলের কয়েকজন বিধায়কও। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর মন্তব্য, “যাঁরা সত্যি কথা বলছেন এবং মানুষকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ।”
কাকলির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার পর থেকে সমাজমাধ্যমে তাঁর একাধিক পোস্ট ঘিরে চর্চা বাড়ছিল। সেই আবহেই প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুভেন্দু দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমে কাকলির বক্তব্য শোনার পরই তাঁকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগে অনেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের কথা বলার সুযোগ পেতেন না। আজ তাঁরা নিজেদের মতামত রাখতে পারছেন।” তিনি আরও জানান, বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে কাকলি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ দিনের বৈঠকে শুধুমাত্র কাকলি নন, বসিরহাট এলাকার বিরোধী বিধায়কেরাও উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু বলেন, “আগে বিজেপির সাংসদদের ফোন পর্যন্ত ধরতেন না বিডিও বা ওসি। সেই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। প্রশাসন সবার জন্য।” তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও প্রশাসনিক কাজে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় হওয়া জরুরি।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। শুভেন্দু এ দিন ফের স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও উন্নয়নমূলক কাজে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায় প্রশাসন। আর সেই বার্তাই যেন আরও একবার সামনে এল কল্যাণীর বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতিকে ঘিরে।



