কোলেস্টেরল বাড়লেই অনেকের প্রথম প্রশ্ন— ওষুধ না খেয়ে কি শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করেই সমস্যা সামলানো সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কোলেস্টেরলের মাত্রা কতটা বেড়েছে, শরীরের অবস্থা কেমন, হৃদ্রোগের ঝুঁকি আছে কি না— সব কিছু বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই শুধু ডায়েটেই সব সময় সমাধান হয় না।
কোলেস্টেরল মূলত দু’ধরনের— ভাল কোলেস্টেরল (এইচডিএল) এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল)। এইচডিএল শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। অন্যদিকে এলডিএল বেশি হলে ধমনীর ভিতরে জমে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কারও কোলেস্টেরল মাঝারি মাত্রায় বেড়ে থাকে, তা হলে কয়েক মাস নিয়ম মেনে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে উপকার পাওয়া সম্ভব। উচ্চ ফাইবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার অনেক ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় তৈলাক্ত মাছ, টাটকা ফল, শাকসবজি, বাদাম, সাদা তিল, অলিভ অয়েল এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা যেতে পারে। এগুলো শরীরে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে ভাজাভুজি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার কমানো জরুরি।
তবে চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এক জনের জন্য কার্যকর ডায়েট অন্য জনের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। বয়স, ওজন, জীবনযাপন, জিনগত প্রবণতা এবং অন্য অসুস্থতার উপরেও ফল নির্ভর করে। তাই নিজের মতো করে ওষুধ বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু ডায়েট নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি। দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, অ্যারোবিক্স বা নিয়মিত ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়ানো এবং মদ্যপান কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা স্পষ্ট— ওষুধ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের সমন্বয়েই সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু ডায়েটের উপর ভরসা করে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।



