পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। নবান্নে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের যে চারটি জেলায় এখনও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেখানে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’-এর বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান, কালিম্পং এবং দক্ষিণ দিনাজপুর— এই চার প্রশাসনিক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেই। সেই ঘাটতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে মেডিক্যাল কলেজ মানের হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরির যে জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথে এগোতে চায়। এজন্য প্রয়োজনীয় জমি, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
শুধু নতুন মেডিক্যাল কলেজ নয়, উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় এইমস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও সামনে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গে উচ্চমানের স্বাস্থ্য পরিষেবার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সরকারের আশা।
এদিন স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক সহায়তার বিষয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে।


এছাড়াও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের অংশ হিসেবে ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই অর্থ এবং নতুন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার সমন্বয়ে আগামী দিনে চিকিৎসা পরিষেবার বিস্তার আরও দ্রুত হবে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে মেডিক্যাল কলেজ সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমন্বয়— সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।



