তিলোত্তমাকাণ্ডের জেরে ফের আলোচনায় চিকিৎসক অভীক দে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল। অভিযোগ, বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটার সুবিধা নিয়ে এসএসকেএম-এ পিজিটি করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।
অভীক দে বর্তমানে সাসপেন্ডেড আরএমও এবং পেশায় রেডিওলজিস্ট। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন আর এন রবি। বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।


এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির চিকিৎসক-বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর বক্তব্য, তিলোত্তমাকাণ্ডে বিচার প্রক্রিয়ার পথে যাঁরা বাধা তৈরি করেছিলেন বা তদন্তে প্রভাব ফেলতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
প্রসঙ্গত, তিলোত্তমার দেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে অভীক দে-র উপস্থিতি নিয়েও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কেন সেখানে পৌঁছেছিলেন। পরে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, তিনি ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই দাবি নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।
অন্যদিকে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো-র বক্তব্য, শুধুমাত্র একজন নয়— মেডিক্যাল কলেজগুলিতে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় থেকেই এই দাবিগুলি তোলা হয়েছিল।


অনিকেত আরও বলেন, আরজি কর-পরবর্তী সময়ে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা সামনে এলেও বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর মতে, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ ফের সামনে আসতে পারে।
এখন নজর থাকবে বিভাগীয় তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগগুলির ভিত্তিতে প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়, সেদিকেই।



