সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উপস্থিতির জন্য পরিচিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবার বাস্তব রাজনৈতিক ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে। মঙ্গলবার হরিয়ানার পানিপথের আইনজীবী সুধীর জাখর নির্বাচন কমিশনের কাছে এই সংগঠনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছেন। আর সেই পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে সুধীর জাখর নিজেকে দলের জাতীয় আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করেছেন। দলটির পরিচিত ‘আরশোলা’ প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে নথিতে।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আবেদন গৃহীত হলে দলটির নামে চলা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল উপস্থিতির উপর ভবিষ্যতে মালিকানার প্রশ্নও উঠতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, ডিজিটাল অধিকার নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
তবে এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দলটির উৎস ও নেতৃত্ব নিয়ে। কারণ, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ দিপক এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নন বলেই জানা যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় রয়েছেন। সুধীর জাখরের দাবি, তিনি অভিজিৎকে ভারতে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দল নিবন্ধনের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তাতে সম্মতি মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে জাখরের বক্তব্য, তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তা যাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণেই তাঁরা আগেভাগে দলটিকে নিবন্ধনের পথে এগিয়েছেন। তাঁর দাবি, না হলে এই নামের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।


প্রসঙ্গত, চলতি মাসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যুব সমাজ নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই মূলত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির উত্থান বলে মনে করা হচ্ছে। শুরুতে মিম ও ডিজিটাল কনটেন্টে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে সেটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেদন মঞ্জুর হলে দলটি প্রথম পর্যায়ে ‘নিবন্ধিত কিন্তু স্বীকৃতিহীন রাজনৈতিক দল’-এর মর্যাদা পেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই সংগঠনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে— সুধীর জাখর না অভিজিৎ দিপকের— সেই বিতর্কও সামনে আসতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



