‘আসল তৃণমূল’ কারা? প্রতীক ও দলের অধিকার নিয়ে কমিশনের বড় বার্তা, জানানো হল সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া

তৃণমূল কংগ্রেসের দুই দাবিদার শিবিরের মধ্যে প্রতীক ও দলীয় স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্কের জেরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ উভয় পক্ষ। সমস্ত নথি ও শুনানি পর্যালোচনার পরই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানাল কমিশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

TMC Symbol Dispute নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবির নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—কে হবে ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস এবং কার দখলে থাকবে জোড়াফুল প্রতীক? এই প্রশ্নের উত্তর এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে। শুক্রবার কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সব পক্ষের নথি, দাবি এবং শুনানি পর্যালোচনা করার পরই আইন মেনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কমিশনের এই অবস্থান সামনে আসার পর স্পষ্ট হয়েছে, কোনও পক্ষের দাবি একতরফাভাবে গ্রহণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সব নথি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

কেন কমিশনের দ্বারস্থ দুই শিবির?

দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক, সম্পত্তি এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সামনে ওঠে। কমিশন উভয় পক্ষের কাছেই তাদের দাবি সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও যুক্তি জমা দিতে বলেছিল।

সূত্রের খবর, কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ শিবির নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের বক্তব্য জমা দেয়। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে কমিশন তাদের আরও ১৫ দিনের সময় দেয় প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য।

সময় বাড়ানো নিয়ে আপত্তি

ঋতব্রত শিবিরকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ শিবিরের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আপত্তি জানানো হয়। তাঁদের দাবি ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, সব পক্ষকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতি মেনেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কী বলছে ঋতব্রত শিবির?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের ধরন নিয়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা একটি সমষ্টিগত নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ শিবির নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে।

এখন কী হবে?

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় প্রতীক ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিরোধে কমিশন সংগঠনের সাংবিধানিক কাঠামো, সদস্যসংখ্যা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং জমা দেওয়া নথি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমানে বিষয়টি কমিশনের বিবেচনাধীন। তাই কে ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের আনুষ্ঠানিক রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর