বাংলায় লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির ফল আশানুরূপ হল না। ৩০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে থেমে যেতে হল ১২টিতেই। তার মধ্যে আবার হেভিওয়েট নেতাদের হার যেন কাঁটার মতো বিঁধছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কোনও ক্রমে জয় পেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কার্যত শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে মুখে হাসি ফুটল বালুরঘাটের বিদায়ী সাংসদের।
আরও পড়ুন: আমেঠি পুনরুদ্ধার কংগ্রেসের, স্মৃতি ইরানিকে হারালেন কিশোরী লাল


বালুরঘাটে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল সুকান্ত মজুমদার ও তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের। মঙ্গলবার ফলপ্রকাশের সময়েও একবার একজন লিড নিলেন তো পরক্ষণে আরেক জন। কে জিতবেন তা আঁচ করাই দায় হয়ে উঠেছিল। অবশেষে দেখা গেল, ১০ হাজার ৩৮৬ ভোটে জয়লাভ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর জয়ের খবর চাউর হতেই উল্লাসে মাতলেন জেলার বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

এবার সুকান্ত মজুমদারের প্রাপ্ত ভোট ৫,৭৪,৯৯৬। অন্যদিকে, বিপ্লব মিত্র পেয়েছেন ৫,৬৪,৬১০ ভোট। সুকান্তের নেতৃত্বেই এবার লোকসভা নির্বাচন লড়ে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে তিনি নিজে হেরে গেলে একটা প্রশ্নচিহ্ন পড়ত তাঁর নামের সামনে। কিন্তু, সব জল্পনা উড়িয়ে ফের একবার বালুরঘাটের সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হলেন সুকান্ত মজুমদার।



বিগত ৫ বছরে বালুরঘাট কেন্দ্রের জন্য একাধিক রেল প্রকল্প এনেছেন সুকান্ত। দু’বার পেয়েছেন ‘সাংসদ রত্ন’ পুরস্কার। ফলে, তাঁর দিকেই পাল্লা ভারী ছিল জেতার ক্ষেত্রে। মুশকিল হয়ে যায়, যখন তৃণমূল বিপ্লব মিত্রকে বালুরঘাটের টিকিট দেয়। কারণ, আত্রেয়ী-পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন বিপ্লব। বর্ষীয়ান নেতা। দক্ষিণ দিনাজপুরকে চেনেন হাতের তালুর মতো। ফলে, একটা চ্যালেঞ্জ ছিল সুকান্তের কাছে তো বটেই।
টানটান উত্তেজনা, কার্যত শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বালুরঘাটে চওড়া হাসি সুকান্তের!

লোকসভায় এবার বিজেপির হেভিওয়েটদের মধ্যে দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ সরকাররা হেরে গিয়েছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে বিপ্লব মিত্রকে হারিয়ে সুকান্তের এই জয় বিজেপিকে সাময়িক স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







