নজরবন্দি ব্যুরো: ছোটবেলায় অতি দারিদ্রতা ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পরবর্তীতে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেছেন বিশ্ব ইতিহাসে এমন নজির ভুরি ভুরি। কর্মক্ষেত্রের সব অঙ্গনে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে চরম দারিদ্র্য জয় করে সাফল্যের চূড়ায় ওঠার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ফুটবল।
আরও পড়ুন: ফাইনালের আগেই ধাক্কা অজি শিবিরে, ছিটকে গেলেন পেসার জশ হ্যাজেলউড


বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের বেশিরভাগই ছিলেন গরিব ঘরের সন্তান। তাদের একজন হলেন ব্রাজিলের রিচার্লিসন। ব্রাজিল ফুটবলের সুপারস্টার রাজমিস্ত্রির ছেলে, বিক্রি করতে হয়েছে আইসক্রিমও!

কাতার বিশ্বকাপে শুরুর সার্বিয়া ম্যাচেই পয়ে জাদু দেখিয়ে ছিলেন রিচার্লিসন। তার সাইড ভলিতে অনবদ্য দ্বিতীয় গোলটির কথা রাতজাগা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখনও আলোচনার বিষয়বস্তু।
বিশ্বকাপে রিচার্লিসনের এই গোল বুঝিয়ে দিয়েছে ব্রাজিলের ফুটবল দেখতে কেন রাতের পর রাত ফুটবলপ্রেমীরা জেগে থাকেন।
একটা গোল নয়, সার্বিয়া ম্যাচে তিনি দু’দুটো গোল করেছেন। ব্রাজিলের ৯ নম্বর জার্সি গায়ে ব্রাজিলের হয়ে এর আগেও অনেক ফুল ফুটিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের কোচ বলেছিলেন, রিচার্লিসন নাকি ‘গোলের গন্ধ’ পান। তাঁকে আটকানো কঠিন। ব্রাজিলের এই তরুণ তুর্কির ফুটবলে উঠে আসা কাহিনীটা কিন্তু খুবই করুন। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্মাননি। তাঁর ছেলেবেলা দারিদ্রে দীর্ণ। গরিব পরিবারে চরম অর্থকষ্ট এবং পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে উঠে আসতে হয়েছে ব্রাজিলের এই নতুন নায়ককে।



২৫ বছর আগে ব্রাজিলের নোভা ভেনেসিয়া শহরে এক রাজমিস্ত্রি পরিবারে তার জন্ম। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা আইসক্রিম বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতেন। কখনও কখনও আইসক্রিম নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হতো বাড়ির বড় ছেলে রিচার্লিসনকেও। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রিচালিসনই ছিলেন বড়। বড় হওয়ার জন্য সংসারের দায়িত্ব তার ওপর বেশি ছিল। সংসারে নিত্য অভাব, কোনও কোনও দিন আধপেটা খেয়েও শুয়ে পড়েছেন রিচার্লিসন। কিন্তু এই প্রচন্ড দারিদ্রতার মধ্যেও তাঁর চোখে ছিল শুধু একটাই স্বপ্ন— ফুটবল।
কিন্তু রিচার্লিসনের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাও খুব কঠিন ছিল। ব্রাজিলের যে এলাকায় তিনি থাকতেন, সেই জায়গাটা ছিল মাদক প্রচারকারীদের স্বর্গরাজ্য। মাদক পাচার থেকে শুরু করে বেআইনি নানা ব্যবসা চলত দিনভর। তাঁর বন্ধুরাও বেআইনি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যার ফলে একবার বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিলেন ব্রাজিলের এই ফুটবলার। একবার
রিচার্লিসনকে মাদক পাচারকারী ভেবে কিশোর এই ফুটবলারের মাথায় পুলিশ পিস্তলও ঠেকিয়ে ছিল সে দিন।
সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন বলেছেন, ‘‘আমার বন্ধুরা প্রায় সকলেই নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করত। কারণ, তাতে কম সময়ের মধ্যে অনেক টাকা রোজগার করে ফেলা যায়। কিন্তু এটা যে ঠিক নয়, সেটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। ওরা মাদক বিক্রি করত। আর আমি বিক্রি করতাম আইসক্রিম, চকোলেট। গাড়িও পরিষ্কার করেছি। কারণ, আমি চেয়েছিলাম সৎপথে জীবনযাপন করতে।’’
রিচার্লির বাবা তাঁকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ছোটবেলায় বাবা তাকে একটা ফুটবল কিনে দিয়েছিলেন। বাবার সেই ফুটবলকে পাথেয় করেই তাঁর উঠে আসা। শত অভাবের মাঝেও ফুটবলকে তিনি তাই হারিয়ে যেতে দেননি। রাস্তায় খেলতে খেলতে এক সময় রিচার্লিসনের পায়ের জাদু চোখে পড়ে স্থানীয় এক শিল্পপতির।
দারিদ্র্য প্রতিকূলতা জয় করা বিশ্বসেরা তারকার গল্প

পেয়েছিলেন তার সাহায্য। সেখান থেকেই ইতিহাসের শুরু। সেই দারিদ্রতাকে জয় করে এখন তিনি বিশ্ব ফুটবলের নায়ক। তাঁর সাইড ভলি তো অসাধারণ। বিশ্বকাপে তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন আপামর ফুটবলপ্রেমী।







