বৈশাখীকে পাসে নিয়ে গোলপার্কের সভা থেকে দিদির জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ শোভনের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বৈশাখীকে পাসে নিয়ে গোলপার্কের সভা থেকে দিদির জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ শোভনের। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলের পালা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। কিছুদিন আগেই প্রাক্তন মন্ত্রী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এছাড়াও দলের একাধিক নেতা মন্ত্রী পথ ধরেছেন বিজেপির। তারপর থেকে তৃণমূলের যুব সভাপতিকে নানা ভাষায় তীব্র আক্রমন করেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ বিরাটের পর সন্তানের স্বাদ পেলেন আরেক ভারতীয় অ্যাথলিট, মা হলেন ববিতা ফোগাট।

সেই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই আইনের দ্বারস্থ হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। এদিকে দীর্ঘদিন বিজেপিতে যোগ দিলেও সক্রিয় ভাবে না দেখতে পাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর একদা প্রিয় ‘কানন’ শোভন চট্টোপাধ্যায় আজ বান্ধবী বৈশাখীকে পাসে নিয়ে গোলপার্কে বিজেপির সভায় যোগ দেন। আর সভা থেকেই তৃণমূল তথা অভিষেককে তীব্র ভাষায় আক্রমন করলেন তিনি। অভিষেককে নাম না করে ‘সোনার গোপাল’ বলে কটাক্ষ করেন। তার জন্য চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল খারাপ হবে বলেই দাবি তাঁর। সভা থেকে প্রিয় দিদির জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন শোভন। তিনি বলেন ‘আমি যখন তৃণমূলে ছিলাম এমন ছিল না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে।

আয়নার সামনে দাঁড়াক তৃণমূল। ওদের পায়ের নিচের মাটি সরে গিয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে দেননি বলেও অভিযোগ শোভনের। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার দাবিকে তুলে ধরেও মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন। তাঁর দাবি, সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।উল্লেখ্য, মিল্লি আল আমিন কলেজে অধ্যাপনা করার সময় বারবার হেনস্তার অভিযোগ করেন বৈশাখী।

অভিযোগ, সরকারকে জানানো সত্ত্বেও তা মেটেনি। পরে তাঁকেই ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয় সরকার। দু’জনেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সমস্যা আরও বাড়ে। অধ্যক্ষের পদে ইস্তফা দেন বৈশাখী। যদিও তা গৃহীত হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়নি। এরপর মিল্লি আল আমিন থেকে রামমোহন কলেজে বদলি করা হয় তাঁকে। তবে সেই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি বৈশাখী। ‘বাধ্য হয়ে’ শিক্ষকতা ছাড়েন বৈশাখী। এই ইস্যুতেও আরও একবার সুর চড়ালেন শোভন। বৈশাখীর হেনস্তাকারী অভিযোগে ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেন। ঠিক কী কারণে একাধিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বৈশাখীকে। তার সম্ভাব্য কারণও উল্লেখ করেন শোভন।

বৈশাখীকে পাসে নিয়ে গোলপার্কের সভা থেকে দিদির জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ শোভনের। তাঁর কথায়, ‘ আমার যন্ত্রণা, দুঃখ হয়। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈশাখীকে।’ এই ইস্যুতে শোভনের পাশাপাশি বৈশাখীও ফিরহাদকে কটাক্ষ করেন। বিধানসভা ভোটের আগে শোভনের সক্রিয়তা তৃণমূলকে চাপে ফেলবে বলেই মনে করছে রাজ্য বিজেপির অন্দরমহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন