রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল বিকাশ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করার প্রস্তুতির মধ্যেই সোমবার শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন একাধিক বিজেপি বিধায়ক। বৈঠক শেষে শঙ্কর ঘোষ জানালেন, ভবিষ্যতের শিক্ষানীতি নির্ধারণ করা হবে সকলের মতামত নিয়েই।
বর্তমানে শিক্ষা দফতর নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে, ভবিষ্যতে এই দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত অথবা শঙ্কর ঘোষ। সেই আবহেই সোমবার বিকাশ ভবনের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


সূত্রের খবর, সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন মোট ১৭ জন বিধায়ক। নতুন শিক্ষাবর্ষ, মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষ করে পিএমশ্রী স্কুল প্রকল্প এবং জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই নীতি চালু হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বৈঠকের পর শঙ্কর ঘোষ বলেন, “গত কয়েক বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আগামীর দিকে এগোতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই সবার মতামত নিয়েই শিক্ষানীতি নির্ধারণ করা হবে।”


তাঁকে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। গত কয়েক বছরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যসূচি থেকে সুকান্ত ভট্টচার্যর মতো কবির লেখা বাদ পড়া এবং সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মতো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে শঙ্কর বলেন, শিক্ষা দফতরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীই নেবেন। তবে যে কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই হবে।
শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যের এই নতুন তৎপরতা আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষক, অভিভাবক ও পড়ুয়াদের।







