রাজ্যের ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি মামলায় বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিমকোর্ট। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। আগামী অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের একটি পর্যবেক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনজীবী মহল। তিনি বলেন, “আমাদের দেখতে হবে শিশুদের ভবিষ্যৎ যাঁদের উপর ন্যস্ত আছে, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই যোগ্য কিনা।”


এই মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অ্যাপটিটিউড টেস্ট না নেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন।
পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা যায় কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে দেয়।
ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এই শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগে অনিয়ম থাকলেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা মানবিক দিক থেকে সঠিক হবে না। কারণ গত প্রায় ন’বছর ধরে তাঁরা কর্মরত এবং বহু পরিবারের জীবিকা এই চাকরির উপর নির্ভরশীল।


ডিভিশন বেঞ্চের সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। সোমবার সেই মামলাই শুনানির জন্য গ্রহণ করল দেশের শীর্ষ আদালত।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর রাজ্যের শিক্ষা মহল ও হাজার হাজার শিক্ষক-চাকরিপ্রার্থীর। কারণ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়েই নির্ধারিত হবে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।







