নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ১ জুন থেকে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন সমস্ত উপভোক্তা। এতদিন যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা পেতেন, তাঁরাও নতুন প্রকল্পের আওতায় আসবেন। শুধু তাই নয়, যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আজ একথা জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির অন্যতম বড় বাস্তবায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে।



এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তফসিলি সম্প্রদায়ের মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা এবং সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা করে পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই বিভাজন তুলে দিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় প্রত্যেক মহিলাকে সমানভাবে মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে চালু হতে চলা এই প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসে ৩০০০ টাকা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সব উপভোক্তাদের জন্য বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার

মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলাদের জন্য আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের পরিকল্পনাতেও অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রশাসনের দাবি, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সোমবারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালও।
মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের আগেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ডিএ, বেতন কমিশন, নারী নিরাপত্তা এবং একাধিক প্রশাসনিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবারের বৈঠকের পর স্পষ্ট, নতুন সরকার দ্রুত একের পর এক জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।







