রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি। কেন্দ্র ও রাজ্যের শিক্ষা দফতরের মধ্যে ইতিমধ্যেই চুক্তি সই হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে পিএমশ্রী স্কুল গড়ে তোলার লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও শিক্ষামূলক আলোচনা।
তৃণমূল সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন মতবিরোধ চলেছিল। রাজ্য সরকার নিজস্ব বিকল্প শিক্ষানীতির খসড়াও তৈরি করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় নীতি কার্যকর হয়নি বাংলায়। এবার রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেল।


রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে আর কোনও বাধা নেই বলেই মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির আওতায় রাজ্যের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় একাধিক আধুনিক পরিবর্তন আনা হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পিএমশ্রী বিদ্যালয় প্রকল্পে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক পরিকাঠামো, স্মার্ট ক্লাসরুম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। লক্ষ্য, প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে পিএমশ্রী মডেলে গড়ে তোলা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা এবার বাংলার মানুষও পাবেন। পিএমশ্রী স্কুল চালু হলে রাজ্যের স্কুলগুলিই বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবে।”


তিনি আরও জানান, জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে তারা আরও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে বলেই দাবি তাঁর।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হলে পাঠ্যক্রমে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, ভাষা শিক্ষা এবং কর্মমুখী শিক্ষার উপর জোর বাড়বে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আগামী দিনে নতুন বিতর্কও তৈরি হতে পারে।







