‘ফাইনাল ভেবেই নামছি’, ডার্বির আগে বার্তা লোবেরার, আশার আলো দেখছেন অস্কার

আইএসএল ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসী অস্কার ব্রুজো ও সের্জিও লোবেরা। যুবভারতীর মহারণে শিরোপার দৌড়ে এগোতে মরিয়া মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যুবভারতীতে রবিবারের আইএসএল ডার্বিকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। যে দল জিতবে, তারাই অনেকটা এগিয়ে যাবে লিগ জয়ের দৌড়ে। টিকিট আগেই শেষ। গ্যালারি কানায় কানায় ভর্তি হওয়ার অপেক্ষা। এমন মহারণের আগে দুই কোচের কথাতেই ফুটে উঠল আত্মবিশ্বাস, আবেগ আর চাপের মিশেল।

ডার্বির আগে সাংবাদিক সম্মেলনে শুরুতেই প্রয়াত মোহন সিং ও স্বপনসাধন বোসের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় দুই কোচের মগজাস্ত্রের লড়াই।

ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে এই ম্যাচ শুধু আবেগ নয়, দায়িত্বও। মরশুম শেষে লাল-হলুদ শিবির ছাড়তে চলেছেন তিনি। ফলে এটাই তাঁর শেষ কলকাতা ডার্বি। তবে ব্যক্তিগত বিষয়কে সরিয়ে রেখে পুরো ফোকাস রাখতে চান দলের উপরেই।

অস্কার বলেন, “এখানে ব্যক্তি, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বা স্পনসর— কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামা।” তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ধাক্কা ফুটবলারদের মানসিক অবস্থাতেও পড়েছিল। তবে এখন দল ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

দু’দশক ধরে লিগ শিরোপার অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের যন্ত্রণা নিয়েও মুখ খুলেছেন অস্কার। তাঁর কথায়, “প্রায় ২০ বছর আমরা লিগ পাইনি। এখন আমরা শিরোপা জয়ের কথাও ভাবতে পারছি। আবার পঞ্চম স্থানে শেষ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটাই বাস্তবতা।”

নিজের আবেগও লুকোননি স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, “আমি আবেগপ্রবণ মানুষ। আমার ভেতরে লাল-হলুদ রংই রয়েছে। নিজেকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক হিসেবেই মনে করি।”

অন্যদিকে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরাও ডার্বিকে কার্যত ফাইনাল বলেই মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য, “শিরোপা জিততে গেলে ইস্টবেঙ্গলের মতো প্রতিপক্ষ দরকার। ওদের বিরুদ্ধে খেলা সবসময়ই কঠিন। আমরা এই ম্যাচ ফাইনাল ভেবেই খেলব।”

লোবেরা আরও বলেন, “আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ রয়েছে সবাইকে দেখানোর যে আমরা ট্রফি জিততে পারি। ট্যাকটিক্স বোর্ডে সবকিছু নিখুঁত দেখায়, কিন্তু মাঠেই আসল পরীক্ষা।”

সাম্প্রতিক ম্যাচে মোহনবাগানের স্ট্রাইকারদের গোল খরার প্রসঙ্গ উঠলেও তাতে খুব একটা চিন্তিত নন বাগান কোচ। তাঁর মতে, সুযোগ তৈরি হওয়াটাই ইতিবাচক দিক। “দল যদি সুযোগই তৈরি করতে না পারত, তাহলে চিন্তা হত। কিন্তু আমরা সুযোগ তৈরি করছি। এখন শুধু আরও নিখুঁত হতে হবে,” বলেন লোবেরা।

সবুজ-মেরুন শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তি, আপুইয়ার অনুশীলনে ফেরা। পাশাপাশি আলবার্তো রডরিগেজও ডার্বিতে খেলতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে প্রভসুখন গিলের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও শুক্রবার পূর্ণ উদ্যমে অনুশীলন করেন তিনি।

সব মিলিয়ে দুই স্প্যানিশ কোচের কৌশল, দুই দলের তারকা ফুটবলারদের লড়াই আর গ্যালারির আবেগ— সবকিছু মিলিয়ে রবিবারের ডার্বি যে আইএসএলের অন্যতম সেরা ম্যাচ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর