রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত শিক্ষাক্ষেত্রেও। নতুন বিজেপি সরকার স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র দুর্নীতি রোধ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শগত পরিবর্তনেও জোর দিতে চাইছে নতুন সরকার। সেই আবহেই স্কুলের ইতিহাস বই থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়-সহ একাধিক বিষয় বাদ যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপি বিধায়ক Sajal Ghosh-এর মন্তব্যে।
বর্তমানে রাজ্যে পূর্ণ সময়ের শিক্ষামন্ত্রী না থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী আপাতত বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা দফতরের সচিবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।


জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্কুলের সিলেবাসে যুক্ত হয়েছিল সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস। অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে চার পাতা জুড়ে রয়েছে সেই আন্দোলনের বিবরণ, তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের আন্দোলনের টাইমলাইন এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও।
এই বিষয়গুলি ভবিষ্যতে আর পাঠ্যক্রমে থাকবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন সজল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “এগুলো আর থাকবে না।” ইতিমধ্যেই বিকাশ ভবনে সিলেবাস পরিবর্তনের আবেদন জমা পড়েছে বলেও শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।
শুধু সিঙ্গুর আন্দোলন নয়, মুঘল ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর দাবি, “আকবর ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং শাহজাহান প্রেমের প্রতীক— এই ধরনের বর্ণনা একপাক্ষিকভাবে লেখা হয়েছে।” এই অংশগুলিও ভবিষ্যতে বদলানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।


এদিকে শিক্ষাবিদদের একাংশও সিলেবাস পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। পঙ্কজ রায় এর মতে, “ইতিহাসের রাজনৈতিক ব্যবহার আগেই বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। ব্যক্তিবন্দনা ছাত্রদের পড়ানো উচিত নয়।”
একই মত প্রকাশ করেছেন নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্য, “সিঙ্গুর আন্দোলন উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করেছিল। সেই অধ্যায় বাদ গেলে খারাপ কিছু হবে না।”
যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও সিলেবাস পরিবর্তনের ঘোষণা হয়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের পরই এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



