কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করা যাবে না, নতুন নির্দেশ স্কুলশিক্ষা দপ্তরের

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নোটিসের পর স্কুলশিক্ষা দপ্তরের কড়া নির্দেশ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা, শিক্ষক নিয়োগ ও পরিকাঠামো নিয়েও বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নোটিসের পর জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্কুলে কর্মরত কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৫টি শিক্ষা জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই) কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। পরে তা স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন করছেন বলে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিকাশ ভবন সূত্রের দাবি, ‘শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯’-এ স্কুলশিক্ষকদের ব্যক্তিগত টিউশন দেওয়ার উপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার এ বিষয়ে নির্দেশ জারি করা হলেও বাস্তবে সেই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই এবার আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।

তবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি বিশেষ ‘রেমেডিয়াল ক্লাস’-এর আয়োজন করে, সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারবেন। অর্থাৎ স্কুলের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে অতিরিক্ত শিক্ষাদানে কোনও বাধা নেই, আপত্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গৃহশিক্ষকতার ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে, প্রাইভেট টিউটরদের সংগঠনগুলির একাংশ এই নির্দেশিকাকে যথেষ্ট বলে মনে করছে না। তাঁদের বক্তব্য, অতীতেও বহুবার একই ধরনের নির্দেশ জারি হয়েছে, কিন্তু কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

শিক্ষক সংগঠনগুলির পাল্টা যুক্তি, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের মতে, স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক, উন্নত পরিকাঠামো এবং সঠিক ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত নিশ্চিত করা গেলে পড়ুয়াদের টিউশনের উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে যাবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত পাঠক্রম, শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তা না হলে কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

এদিকে অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ হওয়ার আগে যদি স্কুলশিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অনেক পড়ুয়ার পড়াশোনায় তার প্রভাব পড়বে না তো? ফলে নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

আরও খবর