তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সুস্মিতা দেব। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে—সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা কি তবে বিজেপির দিকেই পা বাড়ালেন?
রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুস্মিতা দেব স্পষ্টভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না বললেও তাঁর মন্তব্য ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে আমি কোন রাজনীতি করব, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
তৃণমূল নেতৃত্ব বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে চাননি সুস্মিতা। বরং পুরো বিষয়টি নিয়ে সংযত অবস্থানই নিয়েছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরাসরি অস্বীকার না করায় বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাই আরও জোরালো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসের ৬ তারিখে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সুস্মিতা দেবের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে। সেই বৈঠকের পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে ‘ঘরে ফেরা’র পথেই হাঁটছেন, নাকি বিজেপির শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন?
অসম রাজনীতিতে সুস্মিতা দেবের পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। তাঁর বাবা প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেব ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম বর্ষীয়ান নেতা। সেই কারণে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ। কারণ, তৃণমূল ছাড়ার পর এত দ্রুত এই বৈঠক হওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত খুঁজছেন অনেকে।
এখনও পর্যন্ত সুস্মিতা দেব তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। তবে ইস্তফার পরপরই হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক এবং বিজেপি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



