তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হিসেবে উঠে এসেছে এনসিপিআই। কিন্তু যে দলের নাম কয়েকদিন আগেও অধিকাংশ মানুষ শোনেননি, সেই দলের সদর দপ্তর কোথায়? কারা চালান এই সংগঠন? হাওড়ার সাঁকরাইলের একটি দোতলা বাড়িকে ঘিরেই এখন রাজনৈতিক কৌতূহল তুঙ্গে।
লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে দলটি। আর সেই সূত্রেই সামনে এসেছে হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছা-বাণীপুরে অবস্থিত ‘জাগো বিশ্ব’ নামের একটি দোতলা ভবন, যা এনসিপিআই-এর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অন্য ইতিহাসও। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বহু বছর আগে এখানে একটি শিশু নিবাস পরিচালিত হত। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের আশ্রয় ও লালনপালনের কাজ চলত এই প্রতিষ্ঠান থেকে।
পরে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে শিশু নিবাসের কার্যত ইতি ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে এই ঠিকানাতেই এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়।
বাড়িটির মূল ফটকে দুটি নাম নজরে পড়ে— উত্তীয় কুণ্ডু এবং শিউলি কুণ্ডু। উত্তীয় কুণ্ডু স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের প্রকাশক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে শিউলি কুণ্ডু কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় শিউলি কুণ্ডু এনসিপিআই-এর সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সেই পদে না থাকলেও সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। উত্তীয় কুণ্ডু এখনও দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে ওই ভবনে কয়েকজন মহিলা বসবাস করেন, যাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তর হলেও সেখানে বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসমাগম খুব একটা দেখা যায় না।
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। কমিশনের তথ্য বলছে, দলটি এক সময়ে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকার অনুদান পেয়েছিল।
রাজনৈতিকভাবে এনসিপিআই-এর উপস্থিতি এখনও সীমিত। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিলেও কোনও সাফল্য পায়নি দল। হাওড়ার স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য ছিল না।
বর্তমান সভাপতি শান্তনু দে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বসবাসকারী শান্তনু একসময় ত্রিপুরার রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এনসিপিআই-এর প্রতীক ‘কলমের নিব’-এর নকশাও তাঁরই তৈরি বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এনসিপিআই হঠাৎ করেই জাতীয় স্তরের আলোচনায় উঠে এসেছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন পাওয়ার ফলে দলটির রাজনৈতিক গুরুত্ব যে কয়েকগুণ বেড়েছে, তা বলাই যায়। তবে এই নতুন সমীকরণ ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী হবে এবং ‘অস্তিত্বহীন’ বলে পরিচিত দলটি আদৌ বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।



