রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিল। মস্কো ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক রাতেই শতাধিক ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। রুশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ৫০০-রও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এটিই রাজধানী মস্কোর উপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা বলে স্বীকার করেছে রাশিয়াও। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক জনের, আহত বহু মানুষ।
রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতভর মস্কো এবং তার আশপাশের এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, মোট ৫৫৬টি ড্রোন রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে নিশানা করেছিল। যদিও রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
মস্কোর মেয়রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাস জানিয়েছে, গত এক বছরে এই প্রথম এত বড় মাত্রায় হামলার মুখে পড়ল রাশিয়ার রাজধানী। রুশ বাহিনীর দাবি, অন্তত ১২০টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পড়ে আগুন লাগে। সেই ঘটনায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খিমকি শহরে এক মহিলার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া মিটিসচি এলাকায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তাস। অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলেও খবর। হামলার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় রাজধানী জুড়ে।
ড্রোন হামলার নিশানায় ছিল শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরও। যদিও সেখানে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। বিমানবন্দরের পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই হামলার ঠিক কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভে বড়সড় হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। সেই হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে ইউক্রেনের দাবি। মনে করা হচ্ছে, মস্কোর উপর এই ড্রোন হামলা সেই আক্রমণেরই পাল্টা জবাব।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বায়ুসেনাও দাবি করেছে, একই রাতে কিভ লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সাতটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই দুই দেশের হামলার মাত্রা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী মস্কোর মতো উচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় এত বড় ড্রোন হামলা রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।



