কলকাতা ডার্বির উত্তেজনায় কার্যত থমথমে শহর। যুবভারতীতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল। শুধু মর্যাদার লড়াই নয়, এই ম্যাচই অনেকটা ঠিক করে দিতে পারে আইএসএল ট্রফির ভবিষ্যৎ। লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে আজকের ম্যাচ যেন ২২ বছরের অপেক্ষার পরীক্ষা। কারণ, ডার্বি জিতলেই কার্যত আইএসএল খেতাবের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে অস্কার ব্রুজোর দল।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যুবভারতীতে শুরু হবে মরশুমের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ। বর্তমানে দুই দলই ২২ পয়েন্টে রয়েছে। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে সমীকরণ অত্যন্ত সহজ— আজ ডার্বি জিততে পারলেই ট্রফি জয়ের পথে বিশাল সুবিধা পেয়ে যাবে লাল-হলুদ শিবির।


এই ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনাও তুঙ্গে। টিকিট অনেক আগেই শেষ। দুই প্রধানের সমর্থকেরাই বিশ্বাস করছেন, এই ডার্বিই মরশুমের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে।
ম্যাচের আগে অনুশীলনে ৪-২-১-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। ডিফেন্সে আনোয়ার আলি ও কেভিনের জুটি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। দুই প্রান্তে দেখা যেতে পারে জয় গুপ্তা এবং রাকিপকে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগেও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনাই রাখছেন স্প্যানিশ কোচ।
বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে অস্কার ব্রুজোর কাছেও। মরশুম শেষে ইস্টবেঙ্গলের কোচের পদ ছাড়ছেন তিনি। ফলে এটাই তাঁর শেষ কলকাতা ডার্বি। তবে ম্যাচের আগে চাপমুক্ত থাকার বার্তাই দিয়েছেন লাল-হলুদ কোচ।


অস্কার বলেন, “আমরা কোনও চাপ নিচ্ছি না। কারণ আমাদের হারানোর কিছু নেই। বরং মোহনবাগানই বেশি চাপে থাকবে, কারণ ওদের সামনে খেতাব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর আমাদের সামনে রয়েছে একটা স্বপ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি সত্যিই স্বপ্ন দেখতে পারে, তাহলে সে পাহাড়ও টপকে যেতে পারে।”
অন্যদিকে, মোহনবাগানও এই ম্যাচ জিতে লিগের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে মরিয়া। ডার্বি জিতলে তাঁদের সামনে থাকবে আরও একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিততে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার আইএসএল খেতাব ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে সবুজ-মেরুন শিবিরের সামনে।
সব মিলিয়ে আজকের ডার্বি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটা আবেগ, ইতিহাস আর ট্রফির লড়াইও। আর সেই কারণেই যুবভারতীর আলোয় আজ চোখ থাকবে গোটা বাংলা ফুটবলপ্রেমীদের।







