শেয়ার বাজারে জোরালো র‍্যালি, ৫২৬ পয়েন্ট লাফ সেনসেক্সে, অটো ও রিয়েলটি শেয়ারে কেনাকাটার ঝড়

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা, এশিয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা এবং টাকার শক্তিশালী অবস্থানের জেরে চাঙ্গা দেশীয় শেয়ার বাজার। লাভের মুখে অটো, রিয়েলটি ও আর্থিক পরিষেবা খাত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার শক্তিশালী সূচনা করল ভারতীয় শেয়ার বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাবে লগ্নিকারীদের আস্থা বেড়েছে। তারই জেরে দিনের শুরুতেই উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায় সেনসেক্স ও নিফটিতে।

সকাল ১০টা নাগাদ BSE Sensex ৫২৬ পয়েন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৫১৭ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। একই সময়ে Nifty 50 ১৫৭ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৪,১৭৯ পয়েন্টে লেনদেন করছিল।

বাজারের বিস্তৃত চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ সেক্টরেই কেনাকাটার প্রবণতা ছিল প্রবল। বিশেষ করে অটো, রিয়েলটি এবং আর্থিক পরিষেবা খাতের শেয়ারগুলিতে লগ্নিকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল। নিফটি রিয়েলটি সূচক ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি নিফটি অটো ১.০৩ শতাংশ এবং নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সূচক ০.৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হয়।

এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ফার্মাসিউটিক্যাল এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধিমুখী খাতগুলিতে বেশি ভরসা দেখাচ্ছেন।

তবে সব সেক্টর সমানভাবে লাভবান হয়নি। ধাতু খাতের শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ দেখা যায়। এর ফলে নিফটি মেটাল সূচক প্রায় ০.৬৫ শতাংশ নিচে নেমে যায়। আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং পণ্যমূল্যের ওঠানামার প্রভাবেই এই খাতে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিনের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি লাভের তালিকায় ছিল InterGlobe Aviation (ইন্ডিগো), Mahindra & Mahindra, Tata Consultancy Services, Maruti Suzuki এবং HCL Technologies। অন্যদিকে কিছুটা চাপের মুখে ছিল Eternal, Bharat Electronics Limited, Power Grid Corporation of India, Titan Company এবং Adani Ports and Special Economic Zone-এর শেয়ার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এদিনের বাজার উত্থানের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দামের পতনের। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারের নিচে নেমে আসায় ভারতের আমদানি ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে অর্থনীতির উপর চাপও কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ সংস্থা Geojit Investments-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে যাওয়ায় ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (CAD) এবং ব্যালান্স অব পেমেন্টস (BoP) নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব আগামী অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শেয়ার বাজারের উপরও পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকলে ভারতীয় শেয়ার বাজারে ইতিবাচক গতি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন